‘৩৭০ ধারার প্রাচীর ভেঙে…,’ লালকেল্লায় দাঁড়িয়ে ডঃ শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রধানমন্ত্রীর

৭৯তম স্বাধীনতা দিবসের সকালে লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ডঃ শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে গভীর শ্রদ্ধা জানান। সংবিধানের জন্য তাঁর আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩৭০ ধারার প্রাচীর ভেঙে ‘এক দেশ, এক সংবিধান’-এর মন্ত্রকে কার্যকর করার মাধ্যমেই তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।
ডঃ শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ আমরা প্রাণপুরুষ ডঃ শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীও উদযাপন করছি। তিনি ছিলেন দেশের প্রথম মহাপুরুষ যিনি ভারতের সংবিধানের জন্য আত্মত্যাগ করেছিলেন।” তিনি আরও বলেন যে, ৩৭০ ধারা বাতিল করে কাশ্মীরকে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে একত্রিত করার যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা ডঃ শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছে।
পহেলগাঁও প্রসঙ্গ ও পাকিস্তানকে কড়া বার্তা
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে সাম্প্রতিক পহেলগাঁও ঘটনার উল্লেখ করে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, “২২ এপ্রিলের পর, আমরা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলাম। তারা শত্রুর মাটির কয়েকশো কিলোমিটার ভিতরে প্রবেশ করে সন্ত্রাসবাদের মূল ঘাঁটি ধ্বংস করে দিয়েছে।” তিনি আরও জানান, এই ধ্বংসযজ্ঞ এতটাই ব্যাপক ছিল যে তার নতুন নতুন তথ্য এখনো সামনে আসছে।
লালকেল্লায় ক্ষুদ্র ভারত ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন
এদিনের অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পঞ্চায়েতের সদস্য, ‘ড্রোন দিদি’ ও ‘লাখপতি দিদি’-র প্রতিনিধি, ক্রীড়া জগতের বিশিষ্টজন এবং দেশের প্রতি অবদান রাখা বহু মহান ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের উপস্থিতিকে ‘একটি ক্ষুদ্র ভারত’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “আজ, লালকেল্লা প্রযুক্তির মাধ্যমে সারা ভারতের সঙ্গে যুক্ত।”
এছাড়াও, ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত দেশবাসীকে সমবেদনা জানান। লালকেল্লায় পৌঁছনোর আগে তিনি রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানান। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় ২১ বার তোপধ্বনি দেওয়া হয় এবং আকাশপথে সেনাবাহিনীর কপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি করা হয়, যেখানে ‘অপারেশন সিঁদুর’ লেখা ছিল।