শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে, রাজস্থানে জেল খেটে শেষমেশ ঘরে ফিরলেন মালদার পরযায়ী শ্রমিক

শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে রাজস্থান পুলিশ কর্তৃক অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা মালদার শ্রমিক আমির শেখ অবশেষে দেশে ফিরেছেন। মাস দুয়েক আগে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় রাজস্থান পুলিশের বিরুদ্ধে উঠেছে মারাত্মক অভিযোগ। মালদা দক্ষিণের সাংসদ ইশা খান চৌধুরীর হস্তক্ষেপে এবং বিএসএফের তৎপরতায় বুধবার আমিরকে বাংলাদেশে থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
আমির শেখ, মালদার কালিয়াচকের নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা, প্রায় তিন মাস আগে রাজস্থানে শ্রমিকের কাজে গিয়েছিলেন। তার বাবা জেম শেখের অভিযোগ অনুযায়ী, রাজস্থান পুলিশ তাকে রাস্তায় আটক করে শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে। আধার কার্ড এবং অন্যান্য বৈধ কাগজপত্র দেখানোর পরেও পুলিশ তাকে বিশ্বাস করেনি।
আমিরের পরিবার জানায়, রাজস্থান পুলিশ তাকে তিন দিন থানায় আটকে রাখার পর প্রায় দু’মাস জেলে রাখে এবং তারপর কোনো আইনি প্রক্রিয়া বা ডিটেনশন ক্যাম্প ছাড়াই তাকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। আমির বলেন, “আমাকে প্লেনে করে কলকাতা এনে, সেখান থেকে বাসে করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল। ওখানে আমি প্রায় ২০ দিন ছিলাম। খুব ভয়ে এবং কষ্টে ছিলাম।”
এই ঘটনার কথা জানার পর আমিরের পরিবার মালদা দক্ষিণের সাংসদ ইশা খান চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। ইশা খান চৌধুরী বিএসএফের ডিজি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমিরের বৈধ নথিপত্র জমা দেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে বিএসএফ আমিরকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে।
এদিকে, আমিরের পরিবার তার নিখোঁজ থাকার সময়ে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিল, যেখানে রাজস্থান, মুম্বাই এবং ওড়িশা-সহ বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাভাষী শ্রমিকদের হেনস্তার প্রসঙ্গ তোলা হয়। হাইকোর্টের নির্দেশে আমিরের পরিচয় ও নথি যাচাই করে দ্রুত তাকে বাড়ি ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়।
গতকাল বসিরহাটের ঘোজাডাঙা সীমান্ত দিয়ে আমিরকে দেশে ফিরিয়ে আনার পর বসিরহাট পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আমিরকে ফিরে পেয়ে তার বাবা জেম শেখ বলেন, “ছেলেকে ফিরে পেয়ে আমরা খুব খুশি। দুশ্চিন্তায় ঘুম হচ্ছিল না। আমরা আনন্দিত।”