স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে, জেনে নিন ভারতের জাতীয় পতাকার অজানা ইতিহাস

ভারতের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে দেশজুড়ে। চারিদিকে উড়ছে আমাদের প্রিয় ‘তেরঙ্গা’— জাতীয় পতাকা। কিন্তু এই পতাকার পেছনে লুকিয়ে আছে এক গৌরবময় ইতিহাস এবং গভীর তাৎপর্য, যা অনেকেরই অজানা। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন হলেও, তার ঠিক এক মাস আগে ২২ জুলাই, গণপরিষদে আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছিল এই তেরঙ্গা।
জাতীয় পতাকার গঠন ও তাৎপর্য
ভারতীয় জাতীয় পতাকার নকশায় তিনটি সমান আনুভূমিক রেখা রয়েছে: উপরে গাঢ় গেরুয়া, মাঝখানে সাদা এবং নীচে গাঢ় সবুজ। সাদা অংশের কেন্দ্রে ২৪টি দণ্ড বিশিষ্ট নীল অশোকচক্র রয়েছে। এই অশোকচক্রটি সম্রাট অশোকের সারনাথ সিংহ রাজধানীর ধর্মচক্রের প্রতীক, যা ‘আইনের চাকা’ হিসেবে পরিচিত। পতাকার প্রতিটি রঙেরও বিশেষ অর্থ রয়েছে: গেরুয়া সাহস ও ত্যাগের প্রতীক, সাদা শান্তি ও সত্যের প্রতীক এবং সবুজ উর্বরতা ও সমৃদ্ধির প্রতীক।
পতাকা সংহিতা ও সম্মান
২০০২ সালের পতাকা সংহিতা অনুযায়ী, জাতীয় পতাকার ব্যবহার ও প্রদর্শন সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। এই নিয়মগুলি নিশ্চিত করে যে পতাকার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান বজায় রাখা হয়। পতাকা কোনো অবস্থায় মাটিতে স্পর্শ করা বা জলে ভাসানো যাবে না, এবং ক্ষতিগ্রস্ত হলে সম্মানের সঙ্গে এটি নষ্ট করতে হবে। ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসে পতাকা দণ্ড থেকে উপরে তোলা হয়, যা স্বাধীনতার প্রতীক। অন্যদিকে, ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসে পতাকাটি শীর্ষে বেঁধে রাখা হয় এবং রাষ্ট্রপতি তা উন্মোচন করেন।
জাতীয় পতাকার বিবর্তন
প্রথম অনানুষ্ঠানিক জাতীয় পতাকাটি ১৯০৬ সালে কলকাতার পার্সি বাগান স্কোয়ারে উত্তোলন করা হয়েছিল, যার নকশা করেছিলেন শচীন্দ্রপ্রসাদ বসু এবং হেমচন্দ্র কানুনগো। এরপর ১৯০৭ সালে ম্যাডাম ভিকাজি কামা আরেকটি পতাকা নকশা করেন। ১৯২১ সালে পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া স্বরাজ পতাকার নকশা করেন, যেখানে চরকা এবং তিনটি রঙ ছিল। মহাত্মা গান্ধীর প্রস্তাবনায় শান্তির প্রতীক হিসেবে একটি সাদা রেখা যোগ করা হয়। ১৯৩১ সালে এই পতাকার চূড়ান্ত রূপটি তৈরি হয় এবং ১৯৩১ সালে চরকার বদলে অশোকচক্র ব্যবহৃত হয়, যা অগ্রগতির প্রতীক। গণপরিষদ ২২ জুলাই, ১৯৪৭ সালে সুরাইয়া ত্যাবজির নকশা করা অশোকচক্র যুক্ত পতাকাটি গ্রহণ করে।
৭৯তম স্বাধীনতা দিবসের থিম
এই বছর ভারতের ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস পালিত হবে ‘নয়া ভারত’ থিমের ওপর ভিত্তি করে। ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত জাতিতে পরিণত করার স্বপ্নকে এই থিম তুলে ধরে। ১৫ আগস্ট দিল্লির লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রী এই পতাকা উত্তোলন করে ২১ বার তোপধ্বনি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই বিশেষ দিনটি উদযাপন করবেন।