‘ধূমকেতু’ কেন জেন জি-দের কাছে ‘বিশেষ ছবি’ হতে চলেছে? জবাব দিলেন কৌশিক গাঙ্গুলি

দীর্ঘ ১৩ বছর পর দেব-শুভশ্রী জুটির বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘ধূমকেতু’ মুক্তি পেয়েছে। ছবিটি দেখার জন্য দর্শকদের উন্মাদনা তুঙ্গে। ১৪ই আগস্ট সকাল থেকেই সিনেমা হলগুলোতে উপচে পড়া ভিড় এবং ‘হাউসফুল বোর্ড’ দেখা যাচ্ছে। এই ছবিটি মূলত সেই প্রজন্মের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যাঁরা দেব-শুভশ্রীর ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের সাক্ষী। কিন্তু ‘জেন-জি’ অর্থাৎ বর্তমান তরুণ প্রজন্ম কেন একটি ১০ বছর আগের ছবি দেখতে আগ্রহী হবে? সম্প্রতি আজকাল ডট ইন-এর এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ছবির পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলী।

কৌশিক গাঙ্গুলী তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বলেন, “মানুষ আসলে ভালোবাসার কাঙাল। ধরুন, একটি শিশু বা কিশোরের মন খারাপ থাকলে যদি আপনি তার পিঠে স্নেহের হাত রেখে জিজ্ঞেস করেন, ‘কী হয়েছে বাবা?’, দেখবেন সে কেঁদে ফেলবে। সে হয়তো কোনো ভুল করেনি, কিন্তু আপনার হাতের স্পর্শে যে উষ্ণতা ও ভালোবাসা পেল, তার অনুরণনেই চোখে জল চলে আসে। জেন-জি প্রজন্মও তেমনই, তাদের মন অত্যন্ত আধুনিক হলেও দৃষ্টিভঙ্গি খুব সংবেদনশীল।”

কৌশিক গাঙ্গুলী আরও বলেন, “এই প্রজন্মের কাছে সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গির মূল্য অনেক। তারা এমন একটি গল্প দেখতে চায়, যা আধুনিক এবং সংবেদনশীল। আর যেকোনো সংবেদনশীল গল্পই আধুনিক হয়ে ওঠে। এই প্রজন্ম ভ্যাদভ্যাদে কিছু দেখতে চায় না, কিন্তু পুরনো জিনিস দেখতে চায়। তারা অবশ্যই বাঙালিয়ানায় ভরা ছবি দেখতে চায়, কিন্তু তার মধ্যে রুচিবোধ থাকতে হবে। এই সবকটি বিষয়ই ‘ধূমকেতু’-তে আছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমার বিশ্বাস, এই ছবিটি যখন তারা দেখবে, তখন স্বভাবতই তারা এটিকে নিজের করে নেবে। আর সবচেয়ে বড় কথা, তারা তাদের মতো করে দেব-শুভশ্রীকে দেখতে পাবে। তাই আমার বিশ্বাস, ‘ধূমকেতু’ জেন-জি প্রজন্মের কাছে একটি বিশেষ ছবি হতে চলেছে।”

১৪ই আগস্ট সকাল থেকেই প্রেক্ষাগৃহগুলোতে ‘ধূমকেতু’ দেখতে উপচে পড়া ভিড় এবং প্রায় প্রতিটি হলেই ‘হাউসফুল’ বোর্ড দেখা যাচ্ছে। দর্শকরা তাঁদের পুরনো জুটিকে ফিরে পেয়ে খুশি। ‘ধূমকেতু’র কারণে দেব-শুভশ্রীর মধ্যকার অদৃশ্য দেওয়াল যেন পুরোপুরি মুছে গেছে। আগামীতে তাঁরা একসঙ্গে ছবি করবেন কিনা, এই প্রশ্নের জবাবে দুজনই জানিয়েছেন, ভালো চিত্রনাট্য পেলে অবশ্যই করবেন।