‘BJP-কে জেতাতে ডাকাতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন’! তথ্য প্রমান দিয়ে দাবি তেজস্বীর

বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে জেতানোর জন্য নির্বাচন কমিশন ‘ডাকাতি’ শুরু করেছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন আরজেডি বিধায়ক তেজস্বী যাদব। বুধবার সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি দাবি করেন যে, বেছে বেছে বিজেপি নেতা-কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দুটি আলাদা এপিক নম্বরসহ ভোটার কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এই অভিযোগের সপক্ষে তিনি তথ্যপ্রমাণও তুলে ধরেন। বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (SIR) নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই তেজস্বীর এই অভিযোগ নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
তেজস্বী যাদব অভিযোগ করেন, “বিজেপির এক বড় নেত্রী এবং মুজফফরপুরের মেয়র নির্মলা দেবীর কাছে দুটি আলাদা ভোটার কার্ড রয়েছে, যার নম্বর REM1251917 ও GSB1835164। দুটি কার্ডে তাঁর বয়সও ভিন্ন এবং দুটি আলাদা বুথে তাঁর নাম রয়েছে। তিনি দুটি আলাদা ফর্ম ভরে এই দুটি ভোটার কার্ড পেয়েছেন।” তেজস্বী বলেন, “বিজেপি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগসাজশ করে ভোটের আগে থেকেই ভোট ডাকাতি শুরু করেছে। যদি নির্বাচন কমিশন নিজেই এই দুর্নীতি করে, তাহলে এসআইআর-এর অর্থ কী? এমন ঘটনা শুধু একটি নয়, গোটা বিহার জুড়ে অজস্র ছড়িয়ে রয়েছে।”
তেজস্বী যাদব শুধু এই অভিযোগই করেননি, তিনি আরও বলেন যে, ভোটের আগে ভিন রাজ্য থেকে মানুষ এসে বিহারে ভোটার হচ্ছেন। তিনি গুজরাটে বিজেপির বড় দায়িত্বে থাকা ভিখুভাই ডালসানিয়ার উদাহরণ তুলে ধরেন। তেজস্বী বলেন, “ভিখুভাই ডালসানিয়া সম্প্রতি পাটনার ভোটার হয়েছেন, অথচ তিনি ২০২৪ সালে গুজরাট থেকে ভোট দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী, পাঁচ বছরের আগে এভাবে ভোটার তালিকা পরিবর্তন করা যায় না। এটা বিজেপি ও কমিশনের মিলিত ষড়যন্ত্র।”
প্রসঙ্গত, বিহারে এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকেই বিরোধী শিবির কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এসআইআর-এর নামে অনৈতিকভাবে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, যাতে বিজেপির সুবিধা হয়। জীবিত মানুষকে মৃত বলে দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এই ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও দায়ের করা হয়েছে। এবার তথ্যপ্রমাণ সহ তেজস্বীর এই অভিযোগ বিহারের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।