সাত মাসে ৩ লক্ষ কামড়, ২৬ মৃত্যু! পথকুকুর নিয়ে SC-র নির্দেশের মাঝেই কর্নাটকের রিপোর্টে বাড়ল আতঙ্ক

সুপ্রিম কোর্টের পথকুকুর সংক্রান্ত নির্দেশের পর যখন দেশজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে, তখনই কর্নাটকের এক ভয়ংকর রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে রাজ্যে কুকুরের কামড়ানোর ঘটনা ঘটেছে ২ লক্ষ ৮৬ হাজার। অন্যদিকে, গত সাত মাসে র‍্যাবিস ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু গত ৪ থেকে ১০ আগস্টের মধ্যে ৫,৬৫২টি কুকুরের কামড়ানোর ঘটনা সামনে এসেছে।

মঙ্গলবার বেঙ্গালুরুর কেনগেরিতে দুই কলেজ ছাত্রকে পথকুকুরের হামলার শিকার হতে হয়েছে। ড. বি আর আম্বেদকর স্কুল অফ ইকোনমিক্সের ছাত্র সুজন্যা জি জে এবং রেগা নিকিশিতাকে কুকুরে কামড়ানোয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সাত মাসে ২ লক্ষ ৮৬ হাজার কুকুরে কামড়ানোর ঘটনা এবং ২৬ জনের মৃত্যুর খবরে দক্ষিণের এই রাজ্যটিতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যদিও প্রশাসন মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে।

প্রসঙ্গত, দিল্লিতে পথকুকুরের কামড়ে জলাতঙ্ক এবং তার জেরে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট সোমবার এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে। শীর্ষ আদালত দিল্লি-এনসিআর এলাকার সমস্ত পথকুকুরকে অবিলম্বে ধরে নির্বীজকরণ করিয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। আদালত আরও বলেছে, প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করে কুকুর ধরতে হবে এবং কেউ বাধা দিলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আদালত জানিয়েছে।

আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তিনি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “মানবিকতার পথ থেকে সরে এসে সুপ্রিম কোর্ট এই নির্দেশ দিয়েছে। এই অবলা প্রাণীগুলিকে সমস্যা বলে দাগিয়ে দেওয়া যায় না। আশ্রস্থল, নির্বীজকরণ, টিকাদান এবং কমিউনিটি কেয়ারের মাধ্যমে নিষ্ঠুরতা ছাড়াই রাস্তাঘাট নিরাপদ রাখা সম্ভব।”

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর একদিকে যখন পশুপ্রেমীরা প্রতিবাদ করছেন, তখন কর্নাটকের মতো রাজ্যগুলির ভয়ংকর পরিসংখ্যান সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন এবং নাগরিকদের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।