“প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আমার কে? আমার ছবি টি-শার্টে ব্যবহারের অনুমতি কে দিয়েছে?”- ক্ষোভ উগরে দিলেন মিনতা

ভোটার তালিকায় নিজের বয়স ভুল থাকার প্রতিবাদ জানিয়ে এবার নিজেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মিনতা দেবী ক্ষোভ প্রকাশ করলেন। তাঁর ছবি ও নাম দেওয়া টি-শার্ট পরে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী সাংসদরা যে প্রতিবাদ জানিয়েছেন, তাতে তিনি অত্যন্ত বিরক্ত। মিনতা দেবী প্রশ্ন তুলেছেন, “কেন আমার অনুমতি ছাড়া আমার নাম-ছবি ব্যবহার করে টি-শার্ট বানানো হলো?” এই ঘটনায় ইন্ডিয়া জোট অস্বস্তিতে পড়েছে।

বিহারের সিওয়ান জেলার বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী মিনতা দেবীর ভোটার তালিকায় জন্মসাল ভুল করে ১৯০০ লেখা হয়েছিল, যার ফলে তাঁর বয়স দাঁড়িয়েছে ১২৪ বছর। এই ভুল নিয়ে তিনি নিজেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর এই ব্যক্তিগত সমস্যাকে রাজনৈতিক প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

মিনতা দেবী বলেন, “প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বা রাহুল গান্ধী আমার কে হন? তাঁদের আমার ছবি টি-শার্টে ব্যবহারের অনুমতি কে দিয়েছে? এরা যেহেতু আমার পরিচিত কেউ নন, তাহলে কেন এরা আমার বয়স নিয়ে এত শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে উঠেছেন?” তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি আরও জানান, তিনি এই ভুল সংশোধনের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, কিন্তু এই নিয়ে কোনো রাজনীতি চান না।

বিহারের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকায় এই ধরনের ভুল থাকার অভিযোগ তুলে ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা সোমবার কমিশন ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেন এবং মঙ্গলবার সংসদের বাইরে ধর্নায় বসেন। সেই ধর্নায় রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কংগ্রেস সাংসদদের টি-শার্টে মিনতা দেবীর ছবি ও নাম ব্যবহার করা হয়েছিল, যার পিছনে লেখা ছিল ‘১২৪ নট আউট’। বিরোধীরা দাবি করেছিলেন যে, বিহারের খসড়া ভোটার তালিকা জাল ভোটারের ভরা এবং তারই প্রতিবাদে এই টি-শার্ট।

কিন্তু এবার সেই ভুক্তভোগী মিনতা দেবীর তোপের মুখে পড়েছেন বিরোধীরা। তাঁর এই প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, রাজনৈতিক প্রতিবাদে ব্যক্তিগত জীবনের সংবেদনশীল বিষয়কে এভাবে ব্যবহার করা কতটা নৈতিক?