সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই, এক দল কুকুরের নৃশংস আক্রমণে মৃত মহিলা

রাস্তার কুকুরের সমস্যা কতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, তার প্রমাণ মিলল উত্তরপ্রদেশের কুশীনগরে। দিল্লি-এনসিআর-এ বেওয়ারিশ কুকুরদের নির্দিষ্ট আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের কঠোর নির্দেশের মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই কুকুরের আক্রমণে গুরুতর আহত হয়ে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে কুশীনগরের হাটা থানা এলাকার অর্জুন ডুমরি গ্রামে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ৩০ বছর বয়সী মাধুরী দেবী গ্রামের পঞ্চায়েত ভবনের পাশের ধান খেতে কাজ করছিলেন। সেই সময় একদল কুকুরের আক্রমণের শিকার হন তিনি। গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা রাত ৭টা নাগাদ তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার আশপাশ থেকে কুকুরের পাল ঘোরাফেরা করছিল। খবর পেয়ে হাটা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠি উঁচিয়ে কুকুরদের তাড়িয়ে মাধুরী দেবীকে উদ্ধার করে। তাকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশে কুকুরের আক্রমণের ঘটনা বেড়েছে। গত সোমবারই আমরোহা জেলায় রাস্তার কুকুরের কামড়ে আট বছরের এক কিশোর গুরুতর আহত হয়েছিল।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশ আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। শীর্ষ আদালত দিল্লি ও তার সংলগ্ন অঞ্চলে আট সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত বেওয়ারিশ কুকুরকে সরিয়ে নির্দিষ্ট আশ্রয়কেন্দ্রে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এই রায়ের পর দেশজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কিছু পশুপ্রেমী সংগঠন এই রায়ের সমালোচনা করলেও, সাধারণ মানুষ এটিকে স্বাগত জানিয়েছেন।

ভারত সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের অধীনে ইন্টিগ্রেটেড হেলথ ইনফরমেশন প্ল্যাটফর্মের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সারা দেশে প্রায় ২২ লক্ষ মানুষ কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ৫ লক্ষের বেশি, যার মধ্যে ১১ জনের মৃত্যু হয় এবং আক্রান্তদের বেশিরভাগই ছিল ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু। কুশীনগরের এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে বেওয়ারিশ কুকুরের সমস্যা মোকাবিলায় দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া কতটা জরুরি।