২৪ বছর পর খুনের আসামি গ্রেফতার, সাসপেন্স থ্রিলারের চেয়ে কম নয় ওড়িশার ঘটনা

প্রায় দুই দশক আগে সংঘটিত একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্তকে অবশেষে গ্রেফতার করল পুলিশ। খুনের পর দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে নাম-পরিচয় বদলে অন্য রাজ্যে পালিয়ে ছিল সে, কিন্তু শেষরক্ষা হল না। ওড়িশা পুলিশের এই সাফল্য কোনো সাসপেন্স থ্রিলার কাহিনীর থেকে কম নয়।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এই খুনের ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০১ সালের ৬ জুলাই। ওড়িশার গাঞ্জাম জেলার কেরান্দিতোলা গ্রামে উদয়া প্রধান (৫২) এবং তার দুই ভাই মুশা প্রধান ও পঞ্চম প্রধান মিলে কৈবল্য প্রধান নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে খুন করে। ঘটনার পরই পুলিশ মুশা প্রধানকে গ্রেফতার করে। আদালতের নির্দেশে মুশার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় এবং বর্তমানে সে তার সাজা শেষ করে জেল থেকে বেরিয়ে এসেছে।
২৪ বছরের লুকোচুরি:
উদয়া এবং তার দাদা পঞ্চম প্রধান ওই খুনের ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দেয়। তারা প্রথমে বেঙ্গালুরুতে পালিয়ে যায় এবং সেখানে নাম বদলে বসবাস শুরু করে। কিন্তু সেখানে তাদের মধ্যে বচসা হওয়ায় উদয়া চলে যায় চেন্নাইয়ে। সেখানে সে একটি কনস্ট্রাকশন ফার্মে কাজ করত এবং নিজের নাম ‘গণেশ’ বলে পরিচয় দিত।
গত দুই দশক ধরে উদয়াকে ধরার জন্য পুলিশ বহুবার চেষ্টা করেছে, কিন্তু প্রতিবারই সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তবে পুলিশ হার মানেনি। সম্প্রতি ‘অপারেশন গারুদা’ নামে একটি বিশেষ অভিযান শুরু করে তারা। এই অভিযানের অংশ হিসেবেই গোপন সূত্রে উদয়ার সন্ধান পাওয়া যায়।
গ্রেফতার ও পরবর্তী পদক্ষেপ:
তথ্য পাওয়ার পর ওড়িশা পুলিশের একটি দল দ্রুত চেন্নাইয়ে পৌঁছায় এবং সোমবার তাকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ ২৪ বছর পর গ্রেফতারের পর উদয়াকে আদালতে পেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।
পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, উদয়ার অপর ভাই পঞ্চম প্রধান এখনো পলাতক। তার খোঁজেও জোর তল্লাশি চলছে। এই গ্রেফতারের ঘটনা প্রমাণ করে যে অপরাধ করে কেউ দীর্ঘদিন লুকিয়ে থাকলেও আইন থেকে নিস্তার পাওয়া সম্ভব নয়।