গৃহহীনদের নিয়ে কড়া ট্রাম্প, ওয়াশিংটন থেকে সরাতে সেনাবাহিনী মোতায়েন, বিরোধীদের ক্ষোভ

নিজের গল্ফ কোর্স থেকে ফেরার পথে গৃহহীন ও ভিখারিদের দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, এসব মানুষ ওয়াশিংটনের সৌন্দর্য নষ্ট করছে। হোয়াইট হাউসের জানালা দিয়েও একই দৃশ্য দেখে তিনি বিরক্ত হন এবং তার ‘বিস্ট’ লিমুজিন নিয়ে রাস্তায় বেরোলেও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।

ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ গৃহহীনদের ছবি পোস্ট করে লেখেন, “রাজধানী থেকে দূর হও।” এরপর তিনি এক সাংবাদিক বৈঠকে অবিলম্বে ওয়াশিংটন থেকে সব গৃহহীন এবং ভিখারিদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন, অন্যথায় কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দেন। তার এই নির্দেশের পর ওয়াশিংটন ডিসির রাস্তায় হাজারখানেক সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

ট্রাম্পের অভিযোগ, এই গৃহহীনরাই আমেরিকাকে শেষ করে দিচ্ছে এবং তাদের কারণেই খুন ও রাহাজানি বেড়েছে। যদিও ওয়াশিংটনের মেয়র মুরিয়াল বাউজার ট্রাম্পের এই দাবি মানতে নারাজ। তার মতে, গত ৩০ বছরের মধ্যে ওয়াশিংটনে অপরাধের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।

ট্রাম্প অবশ্য বিরোধীদের কথা কানে তোলেননি। তিনি জানিয়েছেন, শহরকে বস্তিমুক্ত করবেনই। যদিও বিরোধীরা অভিযোগ করছেন যে, রিপাবলিকানরা শহরের রাস্তার গর্ত সারানোর জন্য প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের বাজেট এখনও পাশ করেনি। মেয়র ও বিরোধীরা আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে গৃহহীনরা আরও মরিয়া হয়ে উঠতে পারে।

‘So Others Might Eat’ (SOME)-এর মতো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রেসিডেন্ট বয়েড বলেন, একদিনে শহরের রাস্তা থেকে গৃহহীনদের সরানো সম্ভব নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এই মানুষগুলো কোথায় যাবে? তাদের কি শুধু ঠাসাঠাসি করে কোনো শেল্টারে রেখে দেওয়া হবে? এতে কি অপরাধ কমবে?” বয়েড আরও বলেন, এই গরিব মানুষগুলোই সবচেয়ে কম পয়সায় রাস্তা সাফাই থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশনের মতো কাজ করে শহরকে সচল রাখে। তিনি শীতের রাতে গৃহহীনদের দুর্দশার কথাও তুলে ধরেন।