ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে চ্যালেঞ্জ, ব্রিকস জোটের মাধ্যমে শক্তিশালী হচ্ছে ভারত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপানো ‘অন্যায্য’ শুল্কের বিরুদ্ধে এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার উন্নয়নশীল দেশগুলির জোট ‘গ্লোবাল সাউথ’ একজোট হচ্ছে। এর ফলস্বরূপ, ব্রিকস জোট, যার মধ্যে ভারত, চিন, রাশিয়া ও ব্রাজিল অন্তর্ভুক্ত, একটি শক্তিশালী ‘বিকল্প জোট’ হিসাবে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। এই দেশগুলির পারস্পরিক বোঝাপড়া ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্রমশ নিবিড় হচ্ছে, যা আমেরিকার বিরুদ্ধে একটি জোরালো ধাক্কা হতে পারে।
রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ট্রাম্প ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছেন। ট্রাম্প শুধু ভারতকে নয়, ব্রিকসের যেকোনো সদস্যকে মার্কিন বিরোধী অবস্থান নেওয়ার জন্য ১০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ট্রাম্প ভারত ও রাশিয়ার অর্থনীতিকে ‘মৃত’ বলেও মন্তব্য করেছেন, যদিও ভারতের অর্থনীতি বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম এবং চূড়ান্ত ঊর্ধ্বমুখী। এর জবাবে, ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, দেশবাসীর স্বার্থে সস্তায় তেল যেখানে পাওয়া যাবে, সেখান থেকেই কেনা হবে এবং কোনো বিদেশি শক্তির দাদাগিরি মেনে নেওয়া হবে না।
এই পরিস্থিতিতে ব্রিকস দেশগুলো একজোট হয়ে বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। বিশ্বব্যাঙ্ক বা আইএমএফ-এর মতো পশ্চিমী প্রভাবাধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে তারা এনডিবি (নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক) এবং ‘ব্রিকস পে’-এর মতো বিকল্প পেমেন্ট সিস্টেমের উপর জোর দিচ্ছে, যা মার্কিন ডলারের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। একইসঙ্গে, ট্রাম্পের ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি’ নিয়ে ভোলবদলেও আপত্তি জানিয়েছে ব্রিকস দেশগুলো, এবং নিজেদের মধ্যে একটি নতুন মুদ্রা আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে, যেখানে রাশিয়া সবচেয়ে বেশি আগ্রহী।
সম্প্রতি কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছে, যেখানে উভয় নেতা বন্ধুত্ব আরও নিবিড় করার কথা বলেছেন। মোদীর সঙ্গে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা ডা সিলভারও প্রায় এক ঘণ্টা কথা হয়েছে, যেখানে দুই দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এর পাশাপাশি, ৭ বছর পর আগস্টের শেষে ‘শাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন’ সামিটে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর চিন সফরও আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের বাণিজ্যিক ও আর্থিক খামখেয়ালিপনার বিরুদ্ধে ব্রিকস দেশগুলির এই জোটবদ্ধ অবস্থান বিশ্বের প্রায় ৪৬ শতাংশ জনসংখ্যা এবং ৩৫.৬ শতাংশ জিডিপি নিয়ে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।