কমিশনের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে আধিকারিকদের সাসপেন্ড করল না নবান্ন, তদন্তের পথে রাজ্য

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ উপেক্ষা করে ভুয়ো ভোটার তালিকা বিতর্কে অভিযুক্ত চার নির্বাচনী আধিকারিককে সাসপেন্ড করল না রাজ্য সরকার। বরং, সোমবার মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে জানান যে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আপাতত শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দুই আধিকারিককে নির্বাচনী কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্ববর্তী মন্তব্যের প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি, নির্বাচন কমিশন রাজ্যের চার নির্বাচনী আধিকারিক এবং এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে গোপন তথ্য পাচার ও অন্যান্য অভিযোগে সাসপেন্ড ও এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছিল। বারুইপুর পূর্ব (১৩৭) বিধানসভার ERO দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী, AERO তথাগত মন্ডল এবং ময়না বিধানসভার ERO বিপ্লব সরকার, AERO সুদীপ্ত দাস-কে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করা হয়েছিল। এছাড়া, সুরজিত হালদার নামে এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে এফআইআর-এর নির্দেশ ছিল।
তবে, মুখ্যসচিবের চিঠিতে জানানো হয়েছে যে, এই মুহূর্তে শুধুমাত্র ময়না বিধানসভার AERO সুদীপ্ত দাস এবং বারুইপুর পূর্বের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিত হালদারকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, তদন্ত ছাড়া হুট করে আধিকারিকদের সাসপেন্ড করে দিলে রাজ্য প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি, এই আধিকারিকরা শুধু নির্বাচনী কাজই নয়, রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজের সঙ্গেও যুক্ত। তাই তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে বিস্তারিত রিপোর্ট কমিশনকে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই মন্তব্যটি আবার প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে, যেখানে তিনি নাম না করে বলেছিলেন, “আমি কারও কোনও পানিশমেন্ট হতে দেব না।” নবান্নের এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে, রাজ্য সরকার এই বিষয়ে নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছে।