শ্রাবণের শেষ সোমবারে ভক্তের ঢল, পবিত্র জল নিয়ে পদযাত্রা! এই মন্দিরে গেলে পূরণ হয় মনোকামনা

শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবারে দেবাদিদেব মহাদেবের আশীর্বাদ পেতে ভক্তদের ঢল নেমেছিল বাঁকুড়ার ওন্দা ব্লকের এক্যেড়া গ্রামের চতুর্দশ শিবলিঙ্গ মন্দিরে। শাস্ত্রমতে, শ্রাবণ মাস শিবের মাস এবং সোমবার শিবের দিন। এই বিশ্বাস থেকেই বছরের পর বছর ধরে হাজার হাজার ভক্ত এই মন্দিরে ভিড় জমান। এই মন্দিরের মহাদেব অত্যন্ত জাগ্রত বলে মানুষের বিশ্বাস।
পবিত্র জল নিয়ে ভক্তদের পদযাত্রা
এদিন ভোর থেকেই মন্দির চত্বরে পুণ্যার্থীদের ভিড় দেখা যায়। অনেকেই সুদূর শুশুনিয়া পাহাড়ের ঝর্ণা থেকে পবিত্র জল নিয়ে আসেন। কেউ আবার বাঁকুড়ার এক্তেশ্বর মন্দিরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া দ্বারকেশ্বর নদী বা গন্ধেশ্বরীর জল বাঁকে করে দীর্ঘ পথ হেঁটে মন্দিরে পৌঁছান। এই পবিত্র জল দিয়ে মহাদেবের অভিষেক করার পর চলে নানা ধরনের পুজো-আরাধনা। ভক্তরা মহাদেবকে দুধ, ঘি এবং মধুও অর্পণ করেন।
ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের খ্যাতি
ঠিক কত বছর আগে এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা সঠিকভাবে কেউ বলতে পারেন না। তবে বংশপরম্পরায় এখানে একই নিয়মে পুজো হয়ে আসছে। শ্রাবণ মাস এলেই এই মন্দিরের খ্যাতি আরও বাড়ে। ভক্তদের বিশ্বাস, এখানে মহাদেব এতটাই জাগ্রত যে, তাঁর নাম স্মরণ করে খালি পায়ে দীর্ঘ পথ হাঁটতে পুণ্যার্থীদের কোনো কষ্ট হয় না।
এই মন্দিরে আসা ভক্তরা নিজেদের এবং পরিবারের সুখ, সমৃদ্ধি ও সন্তানের মঙ্গল কামনা করেন। শ্রাবণের শেষ সোমবারে এই বিশাল ভক্ত সমাগম আবারও প্রমাণ করে দিল যে, এই প্রাচীন মন্দিরের প্রতি মানুষের গভীর আস্থা ও ভালোবাসা কতটা।