নীরব রাজ্য, কমিশনের কাছে এখন খোলা তিনটি পথ! কী বলছেন HC-র প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি

ভুয়ো ভোটার এবং অস্তিত্বহীন ভোটারের নাম তালিকায় তোলার অভিযোগে দুই ইআরও (Electoral Registration Officer) এবং দুই এইআরও (Assistant Electoral Registration Officer)-কে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু রাজ্য সরকার এখনও পর্যন্ত এই সুপারিশের ওপর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এ বিষয়ে মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া সত্ত্বেও রাজ্যের পক্ষ থেকে কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি দেবাশিস কর গুপ্ত এই বিষয়ে বলেন যে, যদি রাজ্য সরকার নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ না মানে, তবে কমিশনের কাছে তিনটি পথ খোলা থাকে।

প্রথমত, কমিশন তাদের কাজ বাধাপ্রাপ্ত হলে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া পিছিয়ে দিতে পারে। তখন তারা ঘোষণা করতে পারে যে, যতক্ষণ না তালিকা সম্পূর্ণভাবে সংশোধিত হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত রাজ্যে ভোট ঘোষণা করা হবে না।

দ্বিতীয়ত, রাজ্য সরকারের সঙ্গে এই ধরনের বিতর্ক হলে নির্বাচন কমিশন বিষয়টি রাষ্ট্রপতিকে জানাতে পারে।

তৃতীয়ত, বিতর্ক মেটাতে আইনি পথ অবলম্বন করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন অথবা রাজ্য সরকার যেকোনো পক্ষই আদালতে যেতে পারে এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কের জেরে নির্বাচন কমিশন রাজ্যের ওই চার সরকারি আধিকারিককে সাসপেন্ড করার পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করারও সুপারিশ করেছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন যে, কোনো সরকারি অফিসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “আমি প্রাণ দিয়ে রক্ষা করব।” কমিশন সূত্রে খবর, যদি এই বিষয়ে কোনো জবাব না দেওয়া হয়, তবে মুখ্যসচিবের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।