ভোটার তালিকা বিতর্কে রাজ্য-কমিশন টানাপোড়েন! সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিলে যা হবে?

ভুয়ো ভোটার এবং অস্তিত্বহীন ভোটারের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত করার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গের দুই ইআরও (Electoral Registration Officer) এবং দুই এইআরও (Assistant Electoral Registration Officer)-কে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু রাজ্য সরকার এখনো পর্যন্ত সেই সুপারিশের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়েও কোনো সাড়া না পাওয়ায় কমিশন এখন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে।
সুপারিশ অমান্যের কারণ ও প্রাক্তন বিচারপতির ব্যাখ্যা
এই প্রসঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি দেবাশিস কর গুপ্ত বলেন, রাজ্য সরকার যদি কমিশনের নির্দেশ না মানে, তবে কমিশনের কাছে তিনটি বিকল্প পথ খোলা থাকে।
১. নির্বাচন স্থগিত রাখা: কমিশন তাদের কাজ বাধাপ্রাপ্ত হলে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া পিছিয়ে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে তারা ঘোষণা করতে পারে যে, যতক্ষণ পর্যন্ত তালিকা পুরোপুরি সংশোধিত না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত রাজ্যে কোনো নির্বাচন ঘোষণা করা হবে না।
২. রাষ্ট্রপতির কাছে রিপোর্ট: যদি রাজ্য সরকারের সঙ্গে কমিশনের কোনো বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়, তাহলে কমিশন সেই বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে জানাতে পারে।
৩. আইনি পদক্ষেপ: বিতর্ক মেটাতে নির্বাচন কমিশন বা রাজ্য সরকার, যেকোনো পক্ষই আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে। আদালতের নির্দেশের উপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা ও কমিশনের সতর্কতা
প্রসঙ্গত, এই বিতর্কের শুরু হয়েছিল যখন নির্বাচন কমিশন চার সরকারি আধিকারিককে সাসপেন্ড করার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করারও সুপারিশ করে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যেই জানিয়ে দেন, তিনি কোনো সরকারি অফিসারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেবেন না। তিনি বলেন, “আমি প্রাণ দিয়ে রক্ষা করব।”
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, যদি মুখ্যসচিব নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো জবাব না দেন, তাহলে কমিশন তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারে। রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনা এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যেখানে নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।