কোটি টাকা খরচের পরও বেহাল রাস্তা, ধুয়েমুছে সাফ! জঙ্গলের পথই একমাত্র ভরসা, দুর্যোগে বহুমানুষ

প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা খরচ করে তৈরি হয়েছিল আড়াই কিলোমিটারের একটি কংক্রিটের রাস্তা। কিন্তু ২০২২ সালের বন্যায় সেই রাস্তাটির প্রায় ২০০ মিটার অংশ সম্পূর্ণভাবে নদীগর্ভে চলে গেছে। বাঁকুড়ার ওন্দা ব্লকের নিকুঞ্জপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তেঁতুলমুড়ি থেকে শ্রীরামপুর কলোনি পর্যন্ত এই বেহাল রাস্তার কারণে একাধিক গ্রামের হাজার হাজার মানুষ এখন চূড়ান্ত দুর্ভোগে পড়েছেন।
রাস্তাটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
ধগড়িয়া, সাবানপুর এবং শ্রীরামপুর কলোনির মতো গ্রামের মানুষ এই রাস্তাটির ওপর নির্ভরশীল। এটি শুধু স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং কৃষিপ্রধান এই এলাকার উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যাওয়ার জন্যও এটিই ছিল প্রধান পথ। কিন্তু নদীর পাড়ের এই পাকা রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় এখন গ্রামবাসীদের ভরসা কেবল জঙ্গলের ভাঙাচোরা রাস্তা।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রশাসনের উদাসীনতা
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর পাড় শক্ত করে না বেঁধে অপরিকল্পিতভাবে রাস্তাটি তৈরি করার ফলেই বন্যায় এটি ভেসে গেছে। রাস্তাটি মেরামতের জন্য তারা বহুবার পঞ্চায়েত থেকে জেলা পরিষদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। তাদের এই অভিযোগের জেরে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির অভিযোগ, শাসকদল রাস্তার নামে লক্ষ লক্ষ টাকার কাটমানি নিয়েছে, যার কারণে নিম্নমানের কাজ হয়েছে। যদিও স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং দ্রুত রাস্তা মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।