পুলিশি-ধস্তাধস্তিতে অসুস্থ মহুয়া, “শাড়ি ধরে টেনেছে…”, পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তৃণমূল সাংসদের!

ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) বিরুদ্ধে প্রতিবাদে আজ দিল্লির রাজপথে তুমুল উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করার কর্মসূচি নিয়েছিল। তবে কমিশনের সদর দফতরে যাওয়ার পথে দিল্লি পুলিশ তাঁদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র অসুস্থ হয়ে পড়েন।
আজ সকাল সাড়ে ১১টায় সংসদের মকরদ্বার থেকে ইন্ডিয়া জোটের প্রায় ২০০ জন সাংসদ মিছিল করে নির্বাচন সদনের দিকে যাত্রা শুরু করেন। তবে কমিশনের কার্যালয় থেকে মাত্র ৬০০ মিটার দূরে দিল্লি পুলিশ তাঁদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকায়। এই বাধার মুখে সাংসদদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক ধস্তাধস্তি হয়।
পুলিশের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাংসদরা। শাড়ি পরা অবস্থাতেই মহুয়া মৈত্রকে ব্যারিকেড টপকাতে দেখা যায়। একইভাবে সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও ব্যারিকেড পেরোনোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশ দ্রুত তাঁদেরকে টেনেহিঁচড়ে পুলিশ বাসে তোলে। এই ধস্তাধস্তির সময়েই মহুয়া মৈত্র অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় দেখা যায়। তাঁকে রাহুল গান্ধী-সহ অন্যান্য সাংসদরা শুশ্রূষা দেন। আরেক তৃণমূল সাংসদ মিতালী বাগও অসুস্থ বোধ করছেন বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, “মহিলা সাংসদদের শাড়ি ধরে টেনেছে। আমাদের টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়েছে। আমার শাড়ি ছিঁড়েছে।”
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন ঘেরাওয়ের কর্মসূচিতে কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ ইন্ডিয়া জোটের সমস্ত শরিক দল এবং এই জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়া আম আদমি পার্টির সাংসদরাও যোগ দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন অবশ্য আগেই কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল যে ৩০ জন সাংসদকে আলোচনার জন্য স্বাগত জানানো হবে। কিন্তু ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং দাবি করা হয় যে, গেলে ২০০ জন সাংসদই একসঙ্গে যাবেন।
এই ঘটনায় দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলগুলির অভিযোগ এবং এই প্রতিবাদে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।