নবান্ন অভিযানে উত্তাল রাজ্য! পুলিশের হাতে নির্যাতিতার মা-কে মারধরের অভিযোগ, দায়ের FIR

আরজি করের নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার এক বছর পূর্ণ হওয়ার পরেও বিচার না মেলার ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠল রাজ্য। গত শনিবার, ৯ই আগস্ট, নির্যাতিতার বাবা-মায়ের আহ্বানে এবং বিজেপির সমর্থনে আয়োজিত ‘নবান্ন অভিযান’ ঘিরে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটল কলকাতার রাজপথে। এই কর্মসূচিতে যেমন সুবিচারের দাবি উঠেছে, তেমনই পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতিতার মাকে মারধরের গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।
আবেগের মিছিল ও সংঘর্ষের চিত্র
শনিবার ধর্মতলা থেকে শুরু হওয়া এই সুবিচারের দাবিতে পদযাত্রা, যার নেতৃত্বে ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ একাধিক বিজেপি নেতা। মিছিলে কোনো দলীয় পতাকা না থাকলেও বিজেপির সক্রিয় উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। মিছিলটি যখন জওহরলাল নেহরু রোড ধরে পার্ক স্ট্রিটের দিকে এগোচ্ছিল, তখন বিশাল ব্যারিকেড দিয়ে পথ আটকায় পুলিশ। সেই মুহূর্তে ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হলে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ব্যাপক ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এক বছরের পুরোনো সেই যন্ত্রণার স্মৃতি নিয়ে আসা মিছিলটি মুহূর্তেই সংঘর্ষের কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগ: ‘পুলিশ আমাকে মেরেছে’
এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই সামনে আসে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। নির্যাতিতার মা সজল চোখে অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁকে কপাল ও পিঠে আঘাত করেছে। তিনি আরও বলেন যে, এই সংঘর্ষে তাঁর শাঁখা-পলা ভেঙে গেছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই অভিযোগকে সমর্থন করে দাবি করেন, নির্যাতিতার মায়ের আঘাত গুরুতর। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে সিটি স্ক্যান ও এমআরআই করানো হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী আরও দাবি করেন, পুলিশের লাঠিচার্জে প্রায় ১০০ জন বিজেপি কর্মী আহত হয়েছেন।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া ও তদন্তের আশ্বাস
এই অভিযোগের পরেই পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া আসে। প্রথমে পুলিশ অভিযোগ অস্বীকার করলেও রবিবার সকালে কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা জানান, পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কমিশনার বলেন, “ওনার অবশ্যই আঘাত লেগেছে, সেটি দুঃখজনক। তবে কীভাবে এবং কেন এই ঘটনা ঘটল, তা তদন্তের পরই বলা যাবে।” এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে পুলিশের ওপর ওঠা অভিযোগের গুরুত্ব কিছুটা হলেও স্বীকার করে নেওয়া হয়।
রাজনৈতিক চাপানউতোর ও মামলার তালিকা
এদিকে, নবান্ন অভিযানে হাঙ্গামার অভিযোগে কলকাতা পুলিশ ইতিমধ্যে ৭টি FIR দায়ের করেছে। অভিযোগের তালিকায় বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক দিন্দা এবং নেতা কৌস্তভ বাগচীর নাম রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে যে, কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের বাধা দেওয়া ও হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি এই বিশৃঙ্খলার ফলে অন্তত ৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
আরজি করের নির্যাতিতার মায়ের ওপর পুলিশের মারধরের অভিযোগ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। একদিকে বিজেপি পুলিশের বাড়াবাড়ির অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিচ্ছে। সামনে আসন্ন নির্বাচন। তার আগে এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ যে আরও বাড়িয়ে তুলল, তা বলাই বাহুল্য।