উত্তরকাশী বন্যা! ১০০০ জনেরও বেশি তীর্থযাত্রী উদ্ধার, ত্রাণ প্যাকেজ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর এক হাজারেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি। উদ্ধার হওয়া এই মানুষগুলির মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ভক্ত ও তীর্থযাত্রীরা রয়েছেন।
উদ্ধার অভিযান ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার
মুখ্যমন্ত্রী ধামি জানিয়েছেন, দুর্যোগের পর থেকে আটকে পড়া সমস্ত ভক্ত ও তীর্থযাত্রীদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বন্যায় হারসিলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে গিয়েছিল, যা এখন পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া, লাচি গাড়ের কাছে একটি বেইলি সেতু স্থাপন করা হচ্ছে, যা হারসিল পর্যন্ত রাস্তা পুনর্গঠনে সহায়তা করবে। ভারতীয় সেনাবাহিনী, আইটিবিপি, এনডিআরএফ এবং এসডিআরএফ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়ে ৮১৬ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিককে উদ্ধার করেছে। স্বাস্থ্য সচিব আর রাজেশ কুমার জানিয়েছেন, জরুরি অবস্থার জন্য ২৮টি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা রোগীদের চিকিৎসা করছেন।
ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন
ধামি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে পরবর্তী ছয় মাসের জন্য রেশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” এছাড়া, রাজস্ব সচিবের নেতৃত্বে একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হচ্ছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসন এবং ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, খুব শিগগিরই অভাবীদের জন্য একটি ত্রাণ প্যাকেজও প্রদান করা হবে।
রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক
শনিবার মুখ্যমন্ত্রী ধামি দেহরাদূনের রাজভবনে রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) গুরমিত সিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এক্স (টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, এই বৈঠকে ধারালি ও হারসিলে চলমান ত্রাণ কার্য এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা উত্তরাখণ্ডে প্রায়শই ঘটছে। মেঘ ভাঙা বৃষ্টি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই ধরনের ঘটনা বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।