নেশার টাকা না-দেওয়ায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাবাকে কুপিয়ে খুন করল ছেলে! গ্রেফতার যুবক

নেশার টাকা না দেওয়ায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাবাকে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে এক ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার গভীর রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার থানার অন্তর্গত শুকদেবপুর গ্রামে। মৃতের নাম হরেন্দ্রনাথ বৈদ্য (৬৫)। এই ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত ছেলে সুপ্রিয় বৈদ্যকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে।

ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিথুনকুমার দে জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে এবং রবিবার তাকে ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতে তোলা হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সুপ্রিয় তার বাবা হরেন্দ্রনাথের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা চেয়েছিলেন। কিন্তু হরেন্দ্রনাথ টাকা দিতে রাজি হননি, কারণ তিনি জানতেন যে সেই টাকা নেশার পেছনেই খরচ হবে। বাবার টাকা দিতে অস্বীকার করায় সুপ্রিয় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এই নিয়ে দুজনের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়। অভিযোগ, এর জেরেই সুপ্রিয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাবার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হরেন্দ্রনাথ বাড়ির উঠানে লুটিয়ে পড়েন।

বাবাকে খুন করার পর সুপ্রিয় কিছুক্ষণ গ্রামে এদিক-ওদিক ঘোরাফেরা করেন। বাড়িতে শুধু বাবা-ছেলেই থাকতেন, তাই প্রথমে এই ঘটনা কেউ জানতে পারেনি। পরে প্রতিবেশীরা খোঁজখবর নিতে গিয়ে হরেন্দ্রনাথকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং হরেন্দ্রনাথকে উদ্ধার করে ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যায়। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হরেন্দ্রনাথের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য ডায়মন্ড হারবার মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত সুপ্রিয় বৈদ্যকে গ্রেপ্তার করে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সুপ্রিয় দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, এলাকায় নেশাজাত দ্রব্যের আমদানি ও বিক্রি বেড়েছে, কিন্তু প্রশাসন এ বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এই ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।