বিজেপি নেতার সঙ্গে নির্জন রাস্তায় স্ত্রী! পরকীয়া হাতেনাতে ফেলল স্বামী, তারপর…..

পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মারধরের শিকার হলেন এক ব্যক্তি। অভিযোগের তির স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান তথা এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে বারাসতের ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন কল্যাণী মোড়ের বিএসএফ ক্যাম্পের ৪ নম্বর গেটের কাছে। নির্যাতিতা ওই ব্যক্তি বারাসত থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তির নাম উজ্জ্বল দাস, তিনি মরিচার রাজবেড়িয়া এলাকার বাসিন্দা। একই এলাকার পঞ্চায়েত প্রধান সঞ্জীব ওরাং-এর সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ। উজ্জ্বল দাসের দাবি, পঞ্চায়েত প্রধান সঞ্জীব ওরাং তাঁর স্ত্রীকে ‘সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট’ প্রকল্পে সুপারভাইজারের চাকরি পাইয়ে দিয়ে এই সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এই পরকীয়া নিয়ে দাস দম্পতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল এবং তাঁরা আলাদা থাকতে শুরু করেন।
গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ উজ্জ্বল দাস নির্জন রাস্তায় সঞ্জীব ওরাং-এর সঙ্গে তাঁর স্ত্রীকে দেখতে পান। তিনি সঙ্গে সঙ্গে এর প্রতিবাদ করলে, তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। উজ্জ্বল দাসের অভিযোগ, “আমাকে মারধর করে আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ওরা ভিডিও ও ছবি ডিলিট করে দিয়েছে। এরপর স্ত্রীকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধেই থানায় মিথ্যা অভিযোগ করানো হয়েছে।” তিনি সিসিটিভি ফুটেজে এর প্রমাণ আছে বলেও দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন পঞ্চায়েত প্রধান সঞ্জীব ওরাং। তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে উজ্জ্বলের দেখাই হয়নি। ওর সঙ্গে ওর স্ত্রীর ঝামেলা হয়েছে শুনেছি। তারপর তৃণমূলের লোকদের সঙ্গে নিয়ে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানিয়েছে। আসলে আমি আমডাঙা বিধানসভার সম্ভাব্য বিজেপি প্রার্থী। তাই আমার নামে কুৎসা রটানোর জন্য মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।”
তবে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আনিসুর রহমান এই অভিযোগ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, “অনেকদিন ধরেই বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন চলছিল। এরপর বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে শুনেছি। পুলিশ বিষয়টি দেখছে। নিজেকে বাঁচাতে ওই পঞ্চায়েত প্রধান মিথ্যাভাবে তৃণমূলের নাম জড়াচ্ছেন।” পুলিশ উভয় পক্ষের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।