উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে INDIA জোটের অবস্থান কী? যা জানালেন শরদ পওয়ার

আসন্ন উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ইন্ডিয়া জোটের অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়। রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন চললেও, জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা শরদ পওয়ার জানিয়েছেন, এই নির্বাচনে লড়াই করার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

সম্প্রতি রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল যে, ইন্ডিয়া জোট কোনোভাবেই বিজেপিকে ‘ফাঁকা মাঠে গোল’ করার সুযোগ দিতে চায় না। তাই পরাজয় কার্যত নিশ্চিত জেনেও জগদীপ ধনখড়ের ছেড়ে যাওয়া উপরাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিতে পারে বিরোধী শিবির। সম্প্রতি রাহুল গান্ধীর বাড়িতে আয়োজিত এক নৈশভোজে ইন্ডিয়া জোটের নেতারা একত্রিত হয়েছিলেন। সেখানে নৈশভোজের পর জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মধ্যে এক আলাদা বৈঠক হয়, যেখানে উপরাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে খবর। তবে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে শরদ পওয়ার বলেন, “আমরা এখনও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি।” মারাঠা স্ট্রংম্যানের এই মন্তব্য জোটের অবস্থান নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি করেছে।

সাধারণত উপরাষ্ট্রপতি বা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে শাসক ও বিরোধী পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। এই উদ্যোগ সাধারণত সরকারের তরফেই নেওয়া হয়। তবে এখনও পর্যন্ত সরকার পক্ষ উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বিরোধীদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি বলেই জানা গেছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, এনডিএ জোটের তরফে উপরাষ্ট্রপতি পদে কে প্রার্থী হবেন, সেই সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই নেবেন। প্রাথমিকভাবে শোনা গিয়েছিল যে, এবার এনডিএ শরিক দলগুলির কোনো বর্ষীয়ান নেতাকে উপরাষ্ট্রপতি করা হতে পারে। তবে বিজেপি সূত্র এই সম্ভাবনা খারিজ করে দিয়েছে। সূত্রের দাবি, উপরাষ্ট্রপতি হিসাবে এমন কাউকে বেছে নেওয়া হবে যিনি বিজেপির মূল ভাবধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত।

যদি এনডিএ এমন কাউকে প্রার্থী করে, তবে বিরোধীদের তরফে আলাদা করে প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ইন্ডিয়া জোটের সূত্রের খবর, যদি প্রার্থীর নামে সরকারের সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছানো না যায়, তবে শেষ পর্যন্ত ইন্ডিয়া জোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। সেক্ষেত্রে দুটি বিষয় সামনে আসতে পারে: প্রথমত, নিজেদের মধ্যেকার ঐক্য জনসমক্ষে তুলে ধরা; এবং দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিকভাবে বিজেপিকে এক ইঞ্চিও জমি না ছাড়ার বার্তা দেওয়া। এছাড়াও, দলিত, ওবিসি বা সংখ্যালঘু কাউকে প্রার্থী করা হলে সেই নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকেও একটি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া যাবে। যদিও এই বিষয়ে শরদ পওয়ার প্রকাশ্যে কোনো ইঙ্গিত দেননি।