‘যারা খাইতাসি, যাইতাসি বলে তারা ভারতীয় না!’- দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি !

বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের এক বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনীতিতে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তিনি সম্প্রতি বলেছেন, “যারা খাইতাসি, যাইতাসি বলে তারা ভারতীয় না, তারা বাংলাদেশী।” এই মন্তব্যের পর তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং বিশেষত মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা
দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যকে উদ্দেশ্য করে রিজু দত্ত নামে একজন সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, “অর্থাৎ বাঙালির শত্রু বিজেপি, বাংলার সব উদ্বাস্তু হিন্দু বাঙালিকে বাংলাদেশী বলছে।” তিনি মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বলেন, “বিজেপি আপনাদের মুখের বুলি শুনে বেনাগরিক বলছে, বাংলাদেশী বলছে। এতদিন আপনাদের ভোটে জিতেছে, এখন আপনাদের অপমান করছে। প্রতিবাদ করুন, নইলে বিজেপি আপনাদের দেশছাড়া করবে।”
মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের ক্ষোভ
দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য বাংলার উদ্বাস্তু হিন্দু বাঙালি সম্প্রদায়ের, বিশেষ করে মতুয়া ও রাজবংশীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি করেছে। এই সম্প্রদায়গুলো দীর্ঘদিন ধরে বাংলার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিজেপি ২০১৯ এবং ২০২১ সালের নির্বাচনে তাদের সমর্থন পেয়ে বেশ কিছু আসনে জয়লাভ করেছিল।
এই মন্তব্যের পর তাদের মধ্যে বিজেপির প্রতি অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে। একজন মতুয়া নেতা বলেন, “আমরা ভারতীয়, আমাদের পূর্বপুরুষরা এই দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন। আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির কারণে আমাদের বাংলাদেশী বলা অপমানজনক।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের মন্তব্য তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
তৃণমূল কংগ্রেস এই ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। একজন তৃণমূল নেতা সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “বিজেপি পরিকল্পিতভাবে রাজবংশী ও বাঙালি এবং বাঙালি ও নেপালি বাসিন্দাদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে চাইছে।” যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, এই মন্তব্য দিলীপ ঘোষের ব্যক্তিগত মতামত, দলের সরকারি অবস্থানের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
দিলীপ ঘোষের এই ধরনের আক্রমণাত্মক মন্তব্য এর আগেও বিতর্ক তৈরি করেছে। এই নতুন বিতর্ক আগামী নির্বাচনে বিজেপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।