বেলেঘাটায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু! পুত্র সন্তান না হওয়ায় খুন করল শশুর বাড়ির লোকজন?

পুত্রসন্তান না হওয়ায় দীর্ঘ দিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এক গৃহবধূ। বুধবার বেলেঘাটার শ্বশুরবাড়িতে শ্বেতা প্রসাদ সাউ (২৯) নামে ওই গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরিকল্পনা করে তাঁকে খুন করেছেন।
মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে নারকেলডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে শ্বেতার উপর এই অত্যাচার চলছিল এবং তার স্বামী আগেও একাধিকবার তাকে মারধর করেছে। শ্বেতার মৃত্যুর আগে তার বাবা ও মেয়ের মধ্যে ফোনে যে কথোপকথন হয়েছিল, সেই কল রেকর্ডও এখন সামনে এসেছে।
জানা গেছে, বুধবার নতুন করে ঝগড়া শুরু হলে শ্বেতার বাবা তার বেলেঘাটার শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে তাঁকে মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। এরপর জোর করে দরজা খুলে ঘরে ঢুকে তিনি দেখতে পান যে শ্বেতা খাটের উপর অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে আছেন। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের অভিযোগ, শ্বেতাকে তাঁর স্বামী রোহিত সাউ এবং শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য সদস্যরা খুন করেছেন। ২০১৫ সালে শ্বেতা এবং রোহিতের বিয়ে হয়েছিল এবং তাদের দুটি মেয়েও আছে। কিন্তু গত দু’বছর ধরে তাদের মধ্যে দাম্পত্যকলহ চলছিল। মৃতার বাবার অভিযোগ, পুত্রসন্তান না হওয়ার জন্যই শ্বেতাকে ‘নির্যাতন’ করা হত।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে মেঘালয় ঘুরতে যাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়েছিল। এর জেরে শ্বেতার উপর চাপ বাড়ানো হয়। শ্বেতার পরিবারের পক্ষ থেকে খুনের অভিযোগ ওঠায় পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে এবং রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।