ভারতকে ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপালেন ট্রাম্প! ‘নীরবতাই অস্ত্র’- পাল্টা কৌশলী জবাব দিলেন মোদী

ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক এখন এক নতুন মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপটি হলো এক ধরনের ‘চাপের কৌশল’, যার মূল উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক এবং কৌশলগত সম্পর্ক দুর্বল করা।

সংঘাত নয়, সম্মিলিত প্রতিরোধের পথ
ট্রাম্প যখন শুল্ক চাপানোর ঘোষণা করেন, তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সংযমের নীতি নেন। তিনি ট্রাম্পকে সরাসরি ফোন না করে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা কথা বলেন। তাঁদের আলোচনার মূল বিষয় ছিল, কীভাবে ওয়াশিংটনের এই শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ হতে পারে। এর মধ্য দিয়ে মোদী সংঘাতে না গিয়ে সম্মিলিত প্রতিরোধের পথ বেছে নিয়েছেন।

একই দিনে মোদী একটি অনুষ্ঠানে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, “ভারতীয় কৃষকদের স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস নয়, even if I have to pay a heavy price।” এই বার্তাটি সরাসরি ট্রাম্পের উদ্দেশে ছিল, যিনি মার্কিন কৃষি এবং দুগ্ধ শিল্পের জন্য ভারতের বাজার খুলে দিতে চাপ দিচ্ছেন।

কৌশলগত পাল্টা পদক্ষেপ
যখন হোয়াইট হাউজ থেকে অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর ঘোষণা আসে, ঠিক তখনই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল রাশিয়ার মাটিতে পা রাখেন। সেখান থেকেই তিনি ঘোষণা করেন, “ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফরের দিন প্রায় চূড়ান্ত।” এমন একটি সময়ে এই বার্তা ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে একটি কৌশলগত পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চলতি মাসের শেষেই বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মস্কো সফরে যাচ্ছেন এবং ১ সেপ্টেম্বর শাংঘাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে মোদী স্বয়ং বেজিং যাচ্ছেন। সেখানে পুতিন এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি চিনফিংয়ের সঙ্গেও তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

“কূটনীতি আপসের নয়, আত্মমর্যাদার”
ওয়াশিংটনের কাছে এই সব কৌশলগত যোগাযোগ বিরক্তিকর মনে হতে পারে, কিন্তু দিল্লির অবস্থান স্পষ্ট: “কূটনীতি আপসের নয়, আত্মমর্যাদার।” বৃহস্পতিবার রাতে ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত রুশ তেল কেনার ইস্যুটির সমাধান না হচ্ছে, ততক্ষণ ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা বন্ধ থাকবে। এর জবাবে দিল্লি স্পষ্ট জানিয়েছে, ভারতের কৃষি, দুগ্ধ এবং মৎস্য খাতকে মার্কিন আধিপত্যের অধীনে ঠেলে দিয়ে কোনো চুক্তি হবে না।

কৃষকদের পাশে মোদী: ‘আমিই আসল রক্ষক’
২০২০ সালের কৃষক আন্দোলনের স্মৃতি এখনও টাটকা। সেসময় তিনটি কৃষি বিলের বিরুদ্ধে প্রবল ক্ষোভ দেখা গিয়েছিল, যা ২০২১ সালে প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় সরকার। সেই প্রেক্ষাপটে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে মোদী যেন আবারও প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন, “আমি কৃষকদের আসল রক্ষক”। একদিকে বছরে ৬ হাজার টাকা সহায়তা এবং ফসল বিমা, অন্যদিকে আমেরিকার চাপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ—এই দুই মেরুর মধ্যে তিনি এক নতুন সমীকরণ তৈরি করছেন। বৃহস্পতিবার সংসদে মোদীর কৃষকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এই বার্তাই দেয়, “সংঘাত নয়, আত্মবিশ্বাসই ভারতের উত্তর।”