এসআইআর ইস্যুতে ফের এনআরসি-র আশঙ্কা প্রকাশ করলেন মমতা

বিহারে এসআইআর (সোশ্যাল ইনক্লুসিভ রেজিস্টার) প্রক্রিয়ায় ২০০৪ সালের পর জন্মানো শিশুদের বাবা-মায়ের জন্ম শংসাপত্র বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তে ফের একবার কেন্দ্রকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার বীরভূমে আদিবাসী দিবসের এক অনুষ্ঠান থেকে তিনি এই প্রক্রিয়াকে এনআরসি (জাতীয় নাগরিক পঞ্জি)-এর পূর্বপ্রস্তুতি বলে আখ্যা দিয়েছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনগণকে সতর্ক করে বলেন, “না জেনে কেউ ফর্ম ফিলআপ করবেন না। ওদের অন্য পরিকল্পনা আছে। নতুন করে আবার নাম তোলার চক্রান্ত চলছে।” মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, সবার পক্ষে জন্ম শংসাপত্র থাকা কি সম্ভব? তিনি বলেন, যখন তিনি প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন, তখন মাত্র ৬০ শতাংশ মানুষের জন্ম শংসাপত্র ছিল। তাই ২০০৪ সালের পর জন্মানো শিশুদের বাবা-মায়ের জন্ম শংসাপত্র না থাকাটা অস্বাভাবিক নয়।
কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে মমতা বলেন, “আমরাও তো হোম ডেলিভারি, আমাদের স্কুলের সার্টিফিকেটই আছে শুধু। ওদের সার্টিফিকেট আছে তো? যারা আইন করছে তাদের আছে তো? ওরা সোনার চামচ মুখে দিয়ে জন্মেছে, খেটে খাওয়া মানুষের কথা বুঝবে কী করে!” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি সমাজের দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষের বাস্তবতাকে তুলে ধরতে চেয়েছেন।
মমতা একই সঙ্গে সরকারি আধিকারিকদের সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এবং জানতে চেয়েছেন, নির্বাচনের আগেই কোন আইনে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর এই মন্তব্যগুলি রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।