নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব মুখ্যমন্ত্রী, কর্মকর্তাদের পাশে থাকার আশ্বাস

ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন রাজ্যের দুই ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO)-এর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের সুপারিশ করার পর এবার কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ঝাড়গ্রামের একটি সভা থেকে তিনি ওই দুই সরকারি কর্মকর্তার পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন এবং তাঁদের জীবন দিয়ে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলার সরকারি অফিসারদের বলব নিশ্চিন্তে থাকবেন। আমরা আপনাদের জীবন দিয়ে রক্ষা করব।” তিনি নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে বলেন, “সরকারি কর্মচারীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। কালকে আমার দুই অফিসারকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। কি না, তাঁদের সাসপেন্ড করা হল। আমরা বলি, তোমার নির্বাচন এখনও ঘোষণা হয়েছে? কোন আইনের বলে তুমি নোটিস পাঠাচ্ছ? সাসপেন্ড করছ। আর বলে দিচ্ছ, এফআইআর করতে হবে। হবে না। আমি কারও পানিশমেন্ট হতে দেব না। এটা মাথায় রাখবেন।”
সরকারি কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। …আপনাদের রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। জীবন দিয়েও আপনাদের আমরা রক্ষা করব। চিন্তা করবেন না।”
নির্বাচন কমিশনকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, “২ মাসের জন্য নির্বাচনে আসেন। আবার উড়ে চলে যান। বসন্তের কোকিলের মতো। এখন নির্বাচনের অনেক দেরি রয়েছে। এখন থেকে সাসপেন্ড করতে শুরু করেছেন। হরিদাস সব, ক্রীতদাস সব।”
এই সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বিজেপিকেও আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “ওরা জানে আমি ভাঙি তবু মচকাই না। ওরা আমায় জব্দ করতে চাইলে, মানুষ ওদের স্তব্ধ করে দেবে। আমাকে শান্তিতে থাকতে দিন। আমি শান্তিতে থাকলে শান্ত হয়ে যাই। আমার বিরুদ্ধে বজ্জাতি করলে, আমি টর্নেডো হয়ে যাই। আমি সুনামি হয়ে যাই। তখন আমাকে রোখা খুব মুশকিল। জ্যান্ত বাঘের চেয়ে আহত বাঘ খুব ভয়ঙ্কর। আমাদের আহত করার চেষ্টা করবেন না।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তাটি সরাসরি নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি। ভোটের আগে এই ধরনের বিতর্ক রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ সৃষ্টি করেছে।