তিন দিন ধরে মায়ের মৃতদেহ আগলে ছিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলে, মুর্শিদাবাদে চাঞ্চল্য

প্রায় তিন দিন ধরে মায়ের মৃতদেহ আগলে বসে থাকার এক মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এসেছে মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জের নিমতিতা পঞ্চায়েতের দুর্গাপুর কর্মকারপাড়া এলাকায়। বুধবার সকালে প্রতিবেশীরা পচা গন্ধ পেয়ে ওই বাড়িতে যান এবং পুলিশকে খবর দেন। এরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক প্রৌঢ়ার মৃতদেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ওই মহিলার নাম বাসন্তী সাহা (৬০)। তার ছেলে সুজয় সাহা (৩২) মানসিক ভারসাম্যহীন। মা ও ছেলে দুজনেই ওই বাড়িতে থাকতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একসময় সুজয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন, কিন্তু কয়েক মাস ধরে তিনি ব্রেনের সমস্যায় ভুগছিলেন।
প্রতিবেশীরা জানান, গত তিন দিন ধরে ওই বাড়ি থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না এবং ভেতর থেকে দরজা বন্ধ ছিল। যেহেতু মা-ছেলে দুজনেই মানসিক ভারসাম্যহীন, তাই প্রথম দিকে স্থানীয়রা বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। কিন্তু বুধবার সকালে বাড়ি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হলে তারা পুলিশকে খবর দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, পুলিশ যখন মৃতদেহ উদ্ধার করে, তখন সুজয় তার মায়ের দেহের পাশেই বসেছিলেন। মায়ের দেহ নিয়ে যাওয়ার সময়ও তার মধ্যে কোনো ভাবলেশ ছিল না। পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা সন্দেহ প্রকাশ করছেন যে, ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় সুজয় তার মাকে খুন করেছেন কিনা। তবে পুলিশ এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সামসেরগঞ্জ থানার পুলিশ সুজয়কে থানায় নিয়ে গিয়েছে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।