বৈদ্যবাটিতে সরকারি অনুদান প্রত্যাখ্যান করল মহিলা পরিচালিত পুজো কমিটি

রাজ্য সরকারের দেওয়া দুর্গাপুজোর অনুদান এবারও প্রত্যাখ্যান করল হুগলির বৈদ্যবাটির একটি মহিলা পরিচালিত পুজো কমিটি। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের প্রতিটি পুজো কমিটিকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। কিন্তু বৈদ্যবাটির বিবেকানন্দ সরণীর ‘মহিলা মিলন চক্র ক্লাব’ এই অনুদান নিতে রাজি নয়। তাদের দাবি, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে নারী সুরক্ষার অভাব এবং আরজি কর কাণ্ডের মতো ঘটনার বিচার না হওয়া।

গত বছরও আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে এই পুজো কমিটি সরকারি অনুদান ফিরিয়ে দিয়েছিল। দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে এই ক্লাবটি দুর্গাপূজা করে আসছে। ক্লাবের সদস্যরা পোস্টার হাতে প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন যে, গত এক বছরেও আরজি কর কাণ্ডে ন্যায়বিচার মেলেনি। তাই তারা এই অনুদান নিতে ইচ্ছুক নন।

ক্লাবের সভাপতি তপতী মুখোপাধ্যায় বলেন, “গত বছর আরজি কর কাণ্ডের ঘটনার পর আমরা পুজোর অনুদান প্রত্যাখ্যান করেছিলাম। কিন্তু গত এক বছরে তিলোত্তমা কোনও বিচার পায়নি। তাই আমরা কোনো সরকারি অনুদান নিতে চাই না।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, এই অনুদানের কি কোনো প্রয়োজনীয়তা আছে? তার মতে, এই অর্থ যদি স্বাস্থ্য বা শিক্ষাখাতে ব্যয় করা হতো, তবে তা আরও বেশি উপকারী হতো। তিনি বলেন, “রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, মানুষের চাকরি নেই। তাই ক্লাবকে টাকা না দিয়ে যদি ভালো কাজে ব্যবহার হয়, তাহলে আমরা বেশি খুশি হব।”

এই প্রসঙ্গে বৈদ্যবাটি পুরসভার চেয়ারম্যান পিন্টু মাহাতো বলেন, যদি কোনো ক্লাব সরকারি অনুদান না নিতে চায়, তাহলে তাদের কিছু বলার নেই। তিনি আরও বলেন, রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালু করেছে।

এই ঘটনাটি রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকে পুজো কমিটির এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, আবার অনেকে মনে করছেন এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।