পাকিস্তানে প্রাকৃতিক বিপর্যয়! সিন্ধু বদ্বীপ থেকে বাস্তুচ্যুত ১২ লাখ মানুষ, জনশূন্য ৪০টি গ্রাম

প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলের সিন্ধু বদ্বীপ বর্তমানে এক ভয়াবহ সংকটের মুখে। এখানকার প্রায় ৪০টি গ্রাম জনশূন্য হয়ে পড়েছে এবং বিগত কয়েক বছরে লক্ষ লক্ষ মানুষ এই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, এই এলাকা থেকে প্রায় ১২ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

তিব্বত থেকে উৎপন্ন সিন্ধু নদ কাশ্মীর হয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করে আরব সাগরে মিশেছে। কয়েক মাস আগে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত সিন্ধু জলচুক্তি বাতিল করলে সিন্ধু নদে জলের প্রবাহ কমে যায়, যা পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে। তবে সিন্ধু বদ্বীপ অঞ্চলের এই দুর্দশা গত কয়েক দশক ধরেই চলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমবাহ গলে যাওয়া এবং সেচ খাল ও জলবিদ্যুৎ বাঁধের কারণে ১৯৫০ সাল থেকে এই বদ্বীপে জলের প্রবাহ প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে।

সিন্ধু প্রদেশের দক্ষিণ প্রান্তে আরব সাগর সংলগ্ন গ্রামগুলির মানুষ ঐতিহ্যগতভাবে কৃষিকাজ ও মাছ ধরার উপর নির্ভরশীল। কিন্তু সিন্ধু নদে জলের প্রবাহ কমে যাওয়ায় সমুদ্রের জল ঢুকে পড়েছে, যার ফলে চাষের জমি নষ্ট হয়ে গেছে। একটি থিঙ্কট্যাঙ্ক জিন্নাহ ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দুই দশকে এই এলাকা থেকে প্রায় ১২ লক্ষ মানুষ স্থানান্তরিত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই করাচিতে বসতি স্থাপন করেছেন। ১৯৯০ সাল থেকে বদ্বীপের জল প্রায় ৭০ শতাংশ লবণাক্ত হয়েছে, যা এখানকার পরিবেশ এবং জীবিকার ওপর চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এদিকে, পাকিস্তান সরকার পাঞ্জাবের চোলিস্তান মরুভূমিতে একটি নদী খালের নেটওয়ার্ক তৈরির কাজ শুরু করেছে। এই প্রকল্পের ফলে সিন্ধু প্রদেশ এবং বেলুচিস্তানের মানুষের মধ্যে তীব্র বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, এই খাল প্রকল্পের কারণে তাঁরা সিন্ধু নদের জল থেকে বঞ্চিত হবেন, যা তাঁদের কৃষি এবং জীবিকার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলবে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন যে, পাকিস্তান সরকার সেনার নির্দেশে এই কাজ করছে।