কোচবিহারে শুভেন্দুর কনভয়ে হামলার অভিযোগ, পাল্টা তৃণমূলের বিক্ষোভ

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ঘিরে মঙ্গলবার দিনভর উত্তপ্ত থাকল কোচবিহারের খাগড়াবাড়ি এলাকা। শুভেন্দুর কনভয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে, যেখানে গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়া এবং লাঠি দিয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছে বিজেপি। এর পাশাপাশি ‘চোর চোর’ স্লোগানও দেওয়া হয়। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই হামলাকে অস্বীকার করে এনআরসি-র বিরুদ্ধে পাল্টা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।
পূর্ব থেকেই শুভেন্দু অধিকারী কোচবিহারে তার প্রতিবাদ কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূলও একই দিনে কোচবিহারে ১৯টি স্থানে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে। তৃণমূলের দাবি ছিল, ২১ জুলাই ধর্মতলায় তাদের কর্মসূচির পাল্টা বিজেপি যেমন শিলিগুড়িতে কর্মসূচি করেছিল, ঠিক একইভাবে শুভেন্দুর কোচবিহার সফরের দিন তারা এনআরসি-র বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করবে।
ঘটনাটি ঘটে যখন শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় খাগড়াবাড়ির মোড় দিয়ে যাচ্ছিল। সেখানে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা একটি মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, সেই সময় তৃণমূল কর্মীরা হঠাৎই দৌড়ে গিয়ে শুভেন্দুর কনভয়ের ওপর হামলা চালায়। এই হামলায় গাড়ির কাঁচ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, হামলার শিকার হওয়া গাড়িতে শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক দুজনেই ছিলেন।
এই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিজেপির পক্ষ থেকে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এবং তারা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি তুলেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে বিজেপির সাজানো নাটক বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, তারা শুধুমাত্র এনআরসি-র বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ঘটনা ২০২৫ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে রাজ্যের দুই প্রধান দলের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিল।