ডিএ কি মৌলিক অধিকার? সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নে চাঞ্চল্য, শুনানির শুরুতেই দু’পক্ষের সওয়াল-জবাবে উত্তাপ

বকেয়া ডিএ (DA) মামলার শুনানি ঘিরে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং প্রশান্ত কুমার মিশ্রর ডিভিশন বেঞ্চ শুনানির শুরুতেই উভয় পক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশে একটি সরাসরি ও কড়া প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন: “ডিএ-কে আদৌ কি মৌলিক অধিকার (Fundamental Right) হিসেবে ধরা যায়?” এই প্রশ্নে মুহূর্তেই কোর্টরুমে চাঞ্চল্য ছড়ায়।
রাজ্য ও কর্মীদের ভিন্ন অবস্থান:
বিচারপতির প্রশ্নের জবাবে রাজ্যের আইনজীবী সাফ জানিয়ে দেন যে, ডিএ কোনোভাবেই মৌলিক অধিকার নয়। তাঁর মতে, এর পরিমাণ রাজ্যের আর্থিক সামর্থ্যের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারি কর্মীদের পক্ষে আইনজীবী জানান, ডিএ হলো আইনানুগ অধিকার এবং এটি দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের প্রাপ্য হিসেবেই গণ্য হয়ে আসছে। বিচারপতির এই প্রাথমিক প্রশ্ন ও দুই পক্ষের ভিন্ন অবস্থান থেকেই মামলার মোড় কোন দিকে ঘুরতে পারে, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।
আদালতের কড়া মনোভাব:
এর আগে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, ২৭ জুনের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মিটিয়ে দিতে হবে। কিন্তু সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও রাজ্য সরকার তা দেয়নি। সোমবার শুনানিতে রাজ্য সরকার আরও ২ মাসের সময় চেয়েছিল, কিন্তু শীর্ষ আদালত তাতে রাজি না হয়ে জানায়, প্রয়োজনে রোজ শুনানি হবে। মঙ্গলবার শুনানির শুরুতেই বিচারপতির এই কড়া প্রশ্ন সেই মনোভাবেরই প্রতিফলন।
প্রতিবাদী মঞ্চের প্রতিক্রিয়া:
এদিকে, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার রাজ্যের মানুষের করের টাকা অন্যান্য খাতে কোটি কোটি টাকা খরচ করলেও ডিএ মেটাতে গড়িমসি করছে। বিক্ষোভকারীদের মতে, কলকাতা হাইকোর্ট থেকে স্যাট পর্যন্ত সব জায়গায় ধাক্কা খেয়েই রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে এসেছে। তাঁদের আশা, দেশের শীর্ষ আদালতও ডিএ প্রদানের পক্ষেই রায় দেবে, যা কর্মীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে।