আরজি কর কাণ্ডে ক্ষোভের আগুন এখনও জ্বলছে, মমতার অনুদান প্রত্যাখ্যান ২ পুজো কমিটির

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার এক বছর পার হলেও সুবিচার না পাওয়ায় ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবারও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া দুর্গাপুজোর অনুদান নিতে অস্বীকার করল দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের ৭ ও ১৪ পল্লী সর্বজনীন শারদোৎসব কমিটি। এই সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
অনুদান প্রত্যাখ্যানের কারণ:
গত বছর রাজ্যজুড়ে তোলপাড় ফেলে দেওয়া আরজি করের ওই নির্মম ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন পুজো কমিটি সরকারের অনুদান প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবাদ জানাচ্ছিল। জয়নগরের এই দুটি কমিটিও গত বছর একই কারণে অনুদান নেয়নি। পুজো কমিটির সদস্যরা বলেছেন, “এক বছর কেটে গেলেও ওই তরুণীর পরিবারের কান্নার জবাব মেলেনি। সুবিচারের দাবিতে আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এবারও রাজ্য সরকারের দেওয়া অনুদান নেব না।” তাঁরা প্রশাসনকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেবেন বলেও জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক চাপানউতোর:
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি দুর্গাপূজার অনুদান ৩০ শতাংশ বাড়িয়ে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করেছেন, যা গত বছর ছিল ৮৫ হাজার টাকা। কিন্তু রাজ্যের একের পর এক পুজো কমিটি এই অনুদান প্রত্যাখ্যান করায় রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে। উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের বিদ্রোহী ক্লাব এবং নদিয়ার রানাঘাটের ৪ নম্বর পল্লী দুর্গোৎসব কমিটির পর এবার জয়নগরের দুই ক্লাব এই প্রতিবাদে শামিল হলো।
নারী সুরক্ষা নিয়ে ক্ষোভ:
আরজি করের ঘটনা ছাড়াও কসবার ল’ কলেজে গণধর্ষণের অভিযোগ, নদীয়ার কালীগঞ্জে বিস্ফোরণে এক শিশুর মৃত্যু ইত্যাদি ঘটনা রাজ্যের নারী সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এর প্রতিবাদে নিহত তরুণী চিকিৎসকের বাবা-মা আগামী ৯ আগস্ট ‘অরাজনৈতিক নবান্ন অভিযান’-এর ডাক দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, “সুবিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে।”
পুজো এখন প্রতিবাদের মঞ্চ:
এই প্রতিবাদী পরিবেশের কারণে দুর্গাপুজোর আনন্দ উৎসব এবার অনেক কমিটির কাছে প্রতিবাদের মঞ্চে পরিণত হচ্ছে। একদিকে রাজ্য সরকার উৎসবের মাধ্যমে নিজেদের উন্নয়নমুখী ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চাইছে, অন্যদিকে নাগরিক সমাজ এবং পুজো কমিটিগুলোর প্রতিবাদী মনোভাব সরকারের কাছে বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।