“কে প্রকৃত ভারতীয়, তা বিচারপতিরা নির্ধারণ করতে পারেন না”- SCর সমালোচনার জবাবে প্রিয়াঙ্কা

ভারত-চীন সীমান্ত এবং গালওয়ান উপত্যকা নিয়ে মন্তব্যের জেরে সুপ্রিম কোর্টে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়ার পর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর পাশে দাঁড়ালেন তাঁর বোন এবং দলের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তিনি বলেন, বিচার বিভাগ কাউকে প্রকৃত ভারতীয় নির্ধারণ করতে পারে না।

মঙ্গলবার সংসদ চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, “মাননীয় বিচারপতিদের প্রতি সম্মান জানিয়ে আমি বলতে চাই যে কে প্রকৃত ভারতীয় তা তাঁরা নির্ধারণ করতে পারেন না। সরকারকে প্রশ্ন করা একজন বিরোধী দলনেতার কর্তব্য। আমার ভাই কখনও ভারতীয় সেনার বিরুদ্ধে মন্তব্য করবে না।” তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনীর প্রতি রাহুলের অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে এবং তার মন্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টে রাহুল গান্ধীর একটি ফৌজদারি মানহানির মামলার শুনানিতে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আপনি কীভাবে জানলেন চীন ২,০০০ বর্গকিমি ভারতীয় জমি দখল করেছে? আপনি যদি প্রকৃত ভারতীয় হন, তাহলে আপনি এ ধরনের মন্তব্য করবেন না। আপনার কাছে কি কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ আছে?” বিচারপতি মন্তব্য করেন, এমন কথা সংসদে বলা উচিত, রাস্তায় নয়।
২০২০ সালের জুন মাসে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় ভারত ও চীনের সেনাবাহিনীর সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান শহীদ হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ চলাকালীন রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন যে চীন প্রায় ২,০০০ বর্গকিমি ভারতীয় ভূখণ্ড দখল করে নিয়েছে এবং নরেন্দ্র মোদী সরকার কার্যত ‘আত্মসমর্পণ’ করেছে। এই মন্তব্যের জেরে লখনউতে এক নির্বাচিত প্রতিনিধি সংক্রান্ত বিশেষ আদালতে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মানহানির মামলা দায়ের হয়।
যদিও বিচারপতি দত্তের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় রাহুল গান্ধীকে, তবুও সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় আপাতত স্থগিতাদেশ দিয়েছে। রাহুল গান্ধীর আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি যুক্তি দেন যে, এই মামলায় পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো শুনানির সুযোগ না দিয়ে সরাসরি বিচার শুরু করা হয়েছে, যা প্রক্রিয়াগত ত্রুটি। সুপ্রিম কোর্ট সেই যুক্তি মেনে নিয়ে মামলাটিতে স্থগিতাদেশ জারি করে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নোটিশ পাঠায়। এর আগে, গত মে মাসে এলাহাবাদ হাইকোর্ট রাহুল গান্ধীর আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল।