ইলিশের ঝাঁকে বাজার জমজমাট, দাম শুনে মাথায় হাত মধ্যবিত্তের! জেনেনিন কত দাম?

বাঙালির প্রিয় ইলিশ এবারও সাধারণের নাগালের বাইরে। মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মাছ ধরার মরশুমের শুরুটা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাধাগ্রস্ত হলেও, যেটুকু সময় মৎস্যজীবীরা সমুদ্রে জাল ফেলতে পেরেছেন, তাতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বাজারে ইলিশের দাম কমেনি, বরং চড়া। এর পেছনে রয়েছে এক গভীর রহস্য, যা উঠে এসেছে বাজার ব্যবস্থার অন্দরে চলা ‘খেলা’ থেকে।
গত ১৫ জুন থেকে শুরু হওয়া মাছ ধরার মরশুমের প্রথম দেড় মাসেই বারবার নিম্নচাপ, ঝোড়ো হাওয়া এবং উত্তাল সমুদ্রের কারণে বেশিরভাগ ট্রলার উপকূলে আটকে ছিল। মৎস্যজীবীরা মাত্র ১৫-২০ দিনের মতো গভীর সমুদ্রে যেতে পেরেছেন। কিন্তু এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়েছে, যা অনেকের মনে দাম কমার আশা জাগিয়েছিল।
অর্থনীতির সাধারণ সূত্র অনুযায়ী, জোগান বাড়লে দাম কমার কথা। কিন্তু ইলিশের ক্ষেত্রে সেই সূত্র কাজ করছে না। এর কারণ হিসেবে উঠে আসছে বড় ব্যবসায়ীদের কারসাজি। ট্রলার মালিকদের একাংশ জানিয়েছেন, সমুদ্র থেকে ধরা পড়া ইলিশের একটি বড় অংশ সরাসরি বাজারে আসে না, বরং তা চলে যায় কোল্ড স্টোরেজে।
আলু, পেঁয়াজের মতো কৃষিপণ্যে বিনিয়োগকারী বৃহৎ ব্যবসায়ীরা এখন ইলিশের বাজারেও বিপুল পুঁজি ঢালছেন। তারা ইলিশ ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা কিনে সংরক্ষণ করছেন। পরে বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি করে উচ্চ মূল্যে সেই মাছ বিক্রি করা হয়।
এর ফলে বাজারে ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ যেখানে পাইকারি দরে প্রতি কেজি ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেখানেই খোলাবাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৮০০-১০০০ টাকা দরে। মৎস্যজীবীরা জানাচ্ছেন, তাদের ধরা মাছের অনেকটাই বড় ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যাওয়ায় বাজারে প্রকৃত জোগান কমে যায়, যার ফলে দাম বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা এই অবস্থার জন্য সরকারি নজরদারির অভাবকে দায়ী করছেন। তাদের মতে, শুধুমাত্র মাছের পরিমাণ নয়, বরং তার ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করাও সরকারের দায়িত্ব। যদি এই বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে আগামী দিনেও সাধারণ মানুষ ইলিশের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হবে।
মরশুম এখনও শেষ হয়নি। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আরও ইলিশ বাজারে আসতে পারে। তবে তাতেও যদি দাম না কমে, তাহলে বোঝা যাবে, সমস্যা শুধু আবহাওয়া বা উৎপাদনের নয়, বরং বাজার ব্যবস্থার অস্বচ্ছতায়। এই ‘খেলা’ বন্ধ না হলে, ইলিশ হয়তো অচিরেই সাধারণের পাতে নয়, বরং কেবল আলোচনার টেবিলে জায়গা পাবে।