‘নিজের দেশে ফিরে যাও!’ আয়ারল্যান্ডে ফের বর্ণবিদ্বেষের শিকার ভারতীয় ক্যাব চালক, উত্তাল প্রবাসী মহল

আয়ারল্যান্ডে ভারতীয়দের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনায় প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সম্প্রতি ডাবলিনে এক ভারতীয় ক্যাবচালক লাখবীর সিংকে বর্ণবিদ্বেষমূলক হামলার শিকার হতে হয়েছে। তার মাথায় বোতল দিয়ে আঘাত করা হয়েছে এবং তাকে ‘নিজের দেশে ফিরে যাও’ বলে চিৎকার করা হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে এটি আয়ারল্যান্ডে ভারতীয়দের ওপর তৃতীয় হামলার ঘটনা।
ডাবলিন লাইভের প্রতিবেদন অনুসারে, লাখবীর সিং গত ২৩ বছর ধরে আয়ারল্যান্ডে থাকেন এবং এক দশক ধরে ক্যাব চালাচ্ছেন। গত শুক্রবার রাতে তিনি উত্তর ডাবলিনের একটি এলাকা থেকে ২০-২১ বছর বয়সী দুই যুবককে নিয়ে যাচ্ছিলেন। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই ওই যুবকরা তার ওপর হামলা চালায়। তারা লাখবীরের মাথায় দু’বার বোতল দিয়ে আঘাত করে, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে।

আক্রমণের পর রক্তাক্ত অবস্থায় লাখবীর ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। গার্ডাই (আয়ারল্যান্ড পুলিশ) এবং জরুরি পরিষেবা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। লাখবীর বলেন, “গত ১০ বছরে আমি এমন কিছু দেখিনি। আমি ওদের সঙ্গে কোনো খারাপ ব্যবহার করিনি। মনে হচ্ছে, আমি শুধু ভারতীয় বলেই এই আক্রমণের শিকার।” পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে।

এই ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন মাত্র কয়েকদিন আগেই টালাঘটে এক ৪০ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিককে কিশোর গ্যাং দ্বারা মারধর ও বিবস্ত্র করার অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে, ডাবলিনে আরেকজন ৩২ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত উদ্যোগপতিকেও কিশোররা নির্মমভাবে মারধর করে।

একের পর এক এই হামলা আয়ারল্যান্ডে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের মাধ্যমে এই ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
এই হামলার প্রতিবাদে ডাবলিনে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৫ জুলাই টালাঘটে ‘ইউনাইটেড এগেইনস্ট রেসিজম’ এবং ‘ডাবলিন সাউথ ওয়েস্ট টুগেদার’ সংগঠনের উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ মিছিল হয়। প্রায় ৮০০ জন ভারতীয়, বাংলাদেশি এবং আইরিশ নাগরিক ‘সে নো টু রেসিজম’ এবং ‘আয়ারল্যান্ড ইজ হোম’ স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিলে অংশ নেন। এছাড়াও, একটি অনলাইন পিটিশনে ১৫,০০০-এর বেশি স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে, যেখানে সংখ্যালঘুদের জন্য নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।