দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়েতে নতুন ডিজেল লোকো, সফল ট্রায়াল রান! কবে থেকে ছুটবে দেখুন?

ঐতিহ্যবাহী দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR)-এর জন্য নতুন কেনা এনডিএম-৬ ডিজেল-হাইড্রোলিক লোকোর চূড়ান্ত ট্রায়াল রান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দার্জিলিং থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত তিনটি কোচ নিয়ে এই লোকোটির সফল ট্রায়াল রান সম্পন্ন করা হয়। এর আগে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত চড়াই পথেও এর ট্রায়াল রান সফল হয়েছিল। এই নতুন লোকোটিকে বিশেষভাবে ডিএইচআর-এর মতো ন্যারো গেজ রুটের জন্য তৈরি করা হয়েছে এবং এতে উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যসহ উন্নত কর্মক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতার ব্যবস্থা রয়েছে।
এই উদ্যোগটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত ডিএইচআর-এর পরিষেবা আধুনিকীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। নতুন এই ডিজেল লোকোটি মনোরম পাহাড়ি পথে যাত্রীদের সুরক্ষা এবং আরামদায়ক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে। লোকোটিকে নিয়মিত পরিষেবায় যুক্ত করার আগে এটি নিরাপত্তা ও কর্মক্ষমতা মূল্যায়নের একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, আরও দুটি অতিরিক্ত এনডিএম-৬ ডিজেল লোকো সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে এবং সেগুলোও শীঘ্রই ডিএইচআর-এর পরিষেবায় যুক্ত করা হবে।
প্রসঙ্গত, টয় ট্রেনের ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে সাধারণত ডিজেল বা বাষ্প ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়। দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়েতে বাষ্প ইঞ্জিনের ঐতিহ্য থাকলেও, বর্তমানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডিজেল ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়। রেলওয়ে বোর্ড অবশ্য চাইছে যে, টয় ট্রেনের হেরিটেজ স্বীকৃতি বজায় রাখতে সব পরিষেবা বাষ্প ইঞ্জিনের মাধ্যমেই পরিচালিত হোক। এই বিষয়ে রেল বোর্ডে আলোচনাও হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে দার্জিলিং থেকে নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) রুটে প্রতিদিনের টয় ট্রেনটি ডিজেল চালিত ইঞ্জিনে চলে। এছাড়া দার্জিলিং থেকে ঘুম পর্যন্ত পরিচালিত জয় রাইডগুলির বেশিরভাগই ডিজেল ইঞ্জিনে চলে। তবে, কোনো সংস্থা যদি চার্টার্ড রাইডের জন্য ট্রেন ভাড়া করে, সেক্ষেত্রে সাধারণত বাষ্প ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ঐতিহ্যবাহী রেল ব্যবস্থার সংরক্ষণ এবং আধুনিকীকরণের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ, যার মাধ্যমে যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং আরাম নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।