বিয়ের খরচ মেটাতে ঋণ, কতটা যুক্তিযুক্ত কতটা ঝুঁকিপূর্ণ,

বর্তমান সময়ে বিয়ে মানেই বিরাট খরচ। ভারতীয়রা বিয়ের জন্য ৫ লক্ষ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ করেন বলে এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে। কিন্তু পকেটে টাকা থাকলেও, একবারে এত বড় অঙ্কের খরচ করা কি আদৌ বুদ্ধিমানের কাজ? বিয়ের জন্য ব্যক্তিগত ঋণ নেওয়া কতটা স্বাস্থ্যকর বা বুদ্ধিমানের কাজ, তা নিয়েই বাড়ছে আলোচনা।
বিশেষজ্ঞ মহল বলছে, বিয়ের জন্য ঋণ নেওয়ার একটি সুবিধা হলো, তাৎক্ষণিক বিশাল খরচ থেকে মুক্তি পাওয়া। ব্যাঙ্কগুলো সাধারণত ব্যক্তিগত ঋণে ১১ থেকে ২৪ শতাংশ পর্যন্ত সুদ ধার্য করে। ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য সাধারণত ১২ থেকে ২৪ মাস সময় দেওয়া হয়, যার ফলে মাসিক কিস্তির (EMI) মাধ্যমে ধাপে ধাপে টাকা পরিশোধ করা যায়। এটি এককালীন বড় আর্থিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
তবে, সুবিধার পাশাপাশি অসুবিধাও রয়েছে। এই EMI একটি চিন্তার বিষয়। কিস্তি পরিশোধে সামান্য ভুলভ্রান্তি হলেও জরিমানা দিতে হয়। তাছাড়া, ১০ শতাংশের ওপর সুদ মোটেও কম নয়, যা ঋণের বোঝা আরও বাড়িয়ে তোলে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ঋণ পরিশোধে একটু দেরি হলেই ক্রেডিট স্কোরে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য ঋণ প্রাপ্তিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
তাহলে বিয়ের জন্য ঋণ নেওয়া কি ঠিক সিদ্ধান্ত? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি কারো মাসিক কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করার ক্ষমতা থাকে, যদি কেউ মনে করেন যে নগদ টাকা একবারে খরচ করা ঠিক হবে না, এবং যদি কেউ বিয়ের সম্পূর্ণ খরচ নয়, বরং আংশিক খরচের জন্য ঋণ নেওয়ার কথা ভাবেন, তাহলে চিন্তার কিছু নেই। সেক্ষেত্রে ঋণ নেওয়া যেতে পারে। যারা ব্যক্তিগত ঋণের দিকে যেতে চান না, তাদের জন্য গোল্ড লোন (স্বর্ণ ঋণ) একটি ভালো বিকল্প হতে পারে, যা তাৎক্ষণিকভাবে বাড়তি অর্থ প্রদান করে। তবে যেকোনো ঋণের ক্ষেত্রেই নিজের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।