বিচার চেয়ে ঝাঁটা হাতে সিবিআই দফতরে ‘অভয়া মঞ্চ’, আরজি কর কাণ্ডে ক্ষোভ, নীরব কেন কেন্দ্র?

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় প্রায় এক বছর অতিক্রান্ত হলেও বিচার না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে পথে নামল ‘অভয়া মঞ্চ’। আজ শুক্রবার, ‘অভয়া মঞ্চ’ এবং ‘জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অফ ডক্টর্স’ যৌথভাবে স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিজিও কমপ্লেক্সের দিকে এক প্রতীকী ‘সাফাই অভিযানে’ অংশ নেয়। হাতে ঝাঁটা নিয়ে প্রতিবাদকারীরা সিবিআই দফতরে ‘সাফাই’ করতে যাওয়ার মাধ্যমে তদন্তের দীর্ঘসূত্রিতা ও ব্যর্থতার দিকে আঙুল তুলেছেন।
আরজি কর কাণ্ড: এক বছরেও বিচার অধরা
গত বছরের ৯ই আগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে এক চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটেছিল, যা রাজ্যজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। এই ঘটনায় সঞ্জয় রায় নামে এক ব্যক্তি জেলবন্দি থাকলেও, এক বছর হতে চললেও বিচার প্রক্রিয়া থমকে আছে বলে অভিযোগ। এই দীর্ঘসূত্রিতা এবং বিচারের দাবিতেই ‘তিলোত্তমার বিচার চাই’ স্লোগানে আজ আবার রাজপথ মুখরিত হলো।
অভিযান চলাকালীন চিকিৎসক পুণ্যব্রত গুঁই বলেন, “সিবিআই সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দেয়নি বলেই টালা থানার ওসি ও সন্দীপ জামিন পেয়েছে।” তিনি আরও জানান যে, “অভয়ার বাবা-মা দুই মাস আগে দিল্লিতে সিবিআইয়ের ডিরেক্টরের সঙ্গে দেখা করেছেন। কিন্তু সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসার অভয়ার বাবা-মাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে সঞ্জয় রায়ই দোষী।” এই মন্তব্যে সিবিআই তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবাদীদের দাবি, সিবিআই দফতর সঠিক তদন্ত না করে বিচার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করছে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
কংগ্রেসের বিক্ষোভ: মার্কিন শুল্ক ও মোদি সরকারের নীরবতা
একই দিনে রাজ্য রাজনীতিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত-বিরোধী শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কলকাতার ভবানীপুরে যদুবাবুর বাজার এলাকায় বিক্ষোভ দেখিয়েছে কংগ্রেস। তাদের প্রশ্ন, “রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্বের মাশুল, ভারতকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক শাস্তি। কেন চুপ মোদি সরকার?” এই বিক্ষোভে কেন্দ্রীয় সরকারের বাণিজ্য নীতি এবং মার্কিন শুল্কের মুখে তাদের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
দুটি পৃথক ঘটনা হলেও, উভয় ক্ষেত্রেই জনগণের ক্ষোভ এবং সরকারি পদক্ষেপের অভাবের চিত্র ফুটে উঠেছে। একদিকে বিচার চেয়ে রাস্তায় সাধারণ মানুষের আন্দোলন, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিতর্কে কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতা, যা রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।