SIR প্রক্রিয়া নিয়ে সরব বিরোধীরা, উত্তপ্ত হয়েছে সংসদও! কোমর বাঁধল ইন্ডি জোট

বিহারে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এই ইস্যুতে সংসদও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এবার ভোটার তালিকা সংশোধনী প্রক্রিয়া নিয়ে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লাকে চিঠি লিখলেন ইন্ডি জোটের সাংসদরা, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারও স্বাক্ষর করেছেন।
বিহারের ভোটার তালিকা নিয়ে উদ্বেগ:
জানা গেছে, বিহারে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর পর খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৬১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ছে। এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে এবং সংসদেও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে। অন্যদিকে, বাংলায় নির্বাচন কমিশন এখনও ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরুর কথা ঘোষণা না করলেও, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই আসরে নেমেছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, কোনো যোগ্য ভোটারের নাম বাদ পড়লে তারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করবে।
ইন্ডি জোটের চিঠির মূল বিষয়:
এই পরিস্থিতিতে ইন্ডি জোটের সাংসদরা লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লাকে লেখা চিঠিতে বিহারের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চিঠিতে বিরোধী সাংসদরা উল্লেখ করেছেন যে, নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে এমনভাবে ভোটার তালিকা সংশোধনের কোনো নজির নেই। একইসঙ্গে, নির্বাচন কমিশন দেশজুড়ে এমন ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে স্বচ্ছতা এবং এই সময়কে বেছে নেওয়া নিয়ে ইন্ডি জোটের সাংসদরা সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে যে, সংসদের বাদল অধিবেশনের শুরু থেকেই এই ইস্যুতে বিরোধীরা সরব হয়েছে। এমনকি, গত ২০ জুলাই অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছিল। কেন্দ্র জানিয়েছে যে, বাদল অধিবেশনে তারা সব ইস্যুতে আলোচনা করতে প্রস্তুত, কিন্তু তারপরও ভোটার তালিকা সংশোধন ইস্যু নিয়ে সংসদে আলোচনার জন্য এখনও কোনো সময় বরাদ্দ করা হয়নি।
ভোটাধিকার ও স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রশ্ন:
ইন্ডি জোটের সাংসদরা তাদের চিঠিতে জোর দিয়ে বলেছেন যে, ভোটার তালিকা সংশোধন সরাসরি ভোটাধিকার এবং স্বচ্ছ নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত। তাই, কোনো রকম বিলম্ব না করে দ্রুত এই বিষয়ে সংসদে বিশেষ আলোচনার জন্য তারা আবেদন জানিয়েছেন। এদিন সংসদের বাইরেও SIR-এর বিরোধিতা করে বিরোধী সাংসদরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
এখন দেখার বিষয়, বিরোধীদের এই দাবি নিয়ে লোকসভার অধ্যক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেন এবং এই বিতর্ক আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলে।