বিমল গুরুং-রোশন গিরির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন শুভেন্দুর, ছবি ঘিরে তুঙ্গে চর্চা

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিমল গুরুং এবং রোশন গিরির সঙ্গে দেখা করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার নিজাম প্যালেসে তাঁদের দীর্ঘ আলোচনার পর শুভেন্দু অধিকারী নিজেই তাঁর এক্স হ্যান্ডলে সাক্ষাতের ছবি পোস্ট করেছেন, যা রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি দার্জিলিং ও কার্শিয়াং-এ এককভাবে জয়লাভ করেছিল, যেখানে তৃণমূলের সমর্থনে লড়ে বিমল গুরুং ও রোশন গিরির গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা পরাজিত হয়েছিল। কিন্তু গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী রাজু বিস্তার প্রচারে বিমল গুরুংকে সক্রিয় দেখা যায়। এই প্রেক্ষাপটে পাহাড়ের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে শুভেন্দুর এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি মুসলিমদের নিয়ে শুভেন্দুর বিস্ফোরক মন্তব্য:

পাহাড়ের বৈঠক ছাড়াও, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা থেকে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি মুসলিমদের নাম বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। গত শনিবার তমলুকে তিনি বলেন, বিহারে যদি ৫০ লক্ষ নাম বাদ যায়, তাহলে পশ্চিমবঙ্গে ১ কোটি ২৫ লক্ষ বাংলাদেশি মুসলমান ও রোহিঙ্গা বাদ যাবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, গত ৫-৬ বছরে অনেক বাংলাদেশি মুসলিম যুবক ফেসবুকের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুসলিম মেয়েদের পটিয়ে এনে বিয়ে করেছে এবং তারা ভিসা করে বা ভিসা ছাড়াই এদেশে থেকে যাচ্ছে।

শুভেন্দু অধিকারী আরও দাবি করেছেন যে, রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি মুসলিমদের ডোমিসাইল সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে। তিনি এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখবেন বলেও জানিয়েছেন, যাতে আজ থেকে এই সার্টিফিকেট গ্রহণ না করা হয়। পাশাপাশি, তিনি আইপ্যাকের বিরুদ্ধে ৮টি সীমান্ত জেলায় ৭৫ হাজার বাংলাদেশি মুসলমানকে ৬ নম্বর ফর্ম দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, “কেউ আপনাকে বাঁচাতে পারবেন না।” বিডিও এবং এসডিওদের সতর্ক করে তিনি বলেছেন, “ডোমিসাইল সার্টিফিকেট যদি আজকের দিন থেকে গ্রহণ করেন…আপনাদের কপালে দুঃখ আছে।”

নির্বাচনের আগে পাহাড়ের রাজনীতিতে শুভেন্দু অধিকারীর সক্রিয়তা এবং রোহিঙ্গা-বাংলাদেশি মুসলিমদের নিয়ে তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক আঙিনায় নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।