“গেরুয়ার অপমান, ঈশ্বর শাস্তি দেবেন”-BJP-র সাধ্বীর চোখে জল, জেনেনিন কারণ?

২০০৮ সালের মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় বৃহস্পতিবার এক যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করল মুম্বইয়ের বিশেষ এনআইএ আদালত। এই মামলায় অভিযুক্ত বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রসাদ পুরোহিত-সহ মোট সাতজনকেই বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত। রায় ঘোষণার পর আদালতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রজ্ঞা ঠাকুর এবং কর্নেল পুরোহিত, যা উপস্থিত সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
রায় ঘোষণার পর বিচারক এ কে লাহোটির সঙ্গে কথা বলার সময় প্রজ্ঞা ঠাকুরকে কাঁদতে দেখা যায়। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন যে, ভুলবশত তার নাম এই মামলায় জড়ানো হয়েছিল এবং দীর্ঘ বছর ধরে তাকে অযথা অসম্মানিত হতে হয়েছে। তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পেরেছেন বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
আদালতের বাইরে এসে বিজেপি নেত্রী প্রজ্ঞা ঠাকুর বলেন, “আজ গেরুয়ার জিৎ হল। হিন্দুত্বের জয় হল…”। তিনি আরও বলেন, “যাঁরা গেরুয়ার অপমান করেছেন, তাঁদের শাস্তি দেবেন ঈশ্বর।” তার এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন বিজেপি সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর, লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রসাদ পুরোহিত, অবসরপ্রাপ্ত মেজর রমেশ উপাধ্যায়, সুধাকর চতুর্বেদী, অজয় রাহিরকর, সুধাকর ধর দ্বিবেদী এবং সমীর কুলকার্নি। আদালত এই মামলায় সকল অভিযুক্তকেই খালাস করে দিয়েছে, কারণ তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে সাধ্বী প্রজ্ঞা এবং কর্নেল পুরোহিতের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
প্রায় ১৭ বছর আগে, ২০০৮ সালের ২৯শে সেপ্টেম্বর, মহারাষ্ট্রের মালেগাঁওয়ে এই বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। এই ঘটনায় ৬ জন নিহত এবং ১০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছিলেন। সাধ্বী প্রজ্ঞাকে এই মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল।
এদিনের রায়ে আদালত নিহতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে, আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে বলেছে যে, “সন্ত্রাসবাদের কোনো বর্ণ বা ধর্ম নেই।” এই পর্যবেক্ষণটি মামলার গভীরতা এবং এর সংবেদনশীলতাকে তুলে ধরে।
এই রায়ের ফলে মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলার দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটল, যা দেশের বিচার ব্যবস্থায় একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বলে মনে করা হচ্ছে।