শিলিগুড়ি পুরনিগমে ধুন্ধুমার, স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মেয়র পারিষদকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ

শিলিগুড়ি পুরনিগমের বোর্ড মিটিংয়ে আজ এক নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে তীব্র বচসার জেরে মেয়র পারিষদ দিলীপ বর্মনকে সভা কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দিলীপ বর্মনের দাবি, পুরসভার কার্যক্রমে ‘স্বচ্ছতা’ নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তাঁকে এমন অপমানজনক পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে। এই ঘটনা শিলিগুড়ি তৃণমূলের অন্দরের বিভেদ ও ক্ষমতা দখলের জল্পনাকে নতুন করে উসকে দিয়েছে।

স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেই বিপাকে?
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বোর্ড মিটিং চলাকালীন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে মেয়র পারিষদ দিলীপ বর্মন পুরসভার কার্যকারিতা এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অভিযোগ, এরপরই পুরসভার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, এক পর্যায়ে দিলীপ বর্মনকে সভা কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।

দিলীপ বর্মন পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিযোগ করেন, “আমি শুধু স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম, আর তার জেরেই আমাকে অপমান করে মিটিং থেকে বের করে দেওয়া হলো। এটা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক এবং মুখ বন্ধ করার চেষ্টা।” তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থে প্রশ্ন তোলার অধিকার একজন নির্বাচিত প্রতিনিধির রয়েছে এবং তাকে এভাবে থামিয়ে দেওয়া আসলে জনগণের কণ্ঠরোধ করার শামিল।

তৃণমূলের অন্দরকলহ প্রকাশ্যে?
এই ঘটনা শিলিগুড়ি পুরনিগমে তৃণমূলের অন্দরের কোন্দলকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দীর্ঘদিন ধরেই পুরসভার বিভিন্ন বিষয়ে মেয়র পারিষদদের মধ্যে মতবিরোধের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। আজকের ঘটনা সেই গুঞ্জনকে অনেকটাই নিশ্চিত করল। বিরোধীরা এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসকদলের ‘অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

বিজেপির স্থানীয় এক নেতা মন্তব্য করেছেন, “শিলিগুড়িতে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এখন আর গোপন নেই। আজকের ঘটনা সেটাই প্রমাণ করল। যারা নিজেদের ঘর সামলাতে পারে না, তারা শহর কী করে চালাবে?”

অন্যদিকে, তৃণমূলের তরফে এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে, দলের অভ্যন্তরে এই ঘটনা নিয়ে যে চাপা অসন্তোষ এবং আলোচনা চলছে, তা স্পষ্ট। আগামী দিনে এই ঘটনার জেরে শিলিগুড়ি পুরনিগমের রাজনৈতিক সমীকরণ কী দাঁড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।