দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান! নয়া সেতু পাচ্ছে পশ্চিম বর্ধমান-বীরভূম, উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী

পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলার মধ্যে সড়কপথে দীর্ঘদিনের যোগাযোগের সমস্যা এবার স্থায়ী সমাধান পেতে চলেছে। অজয় নদের উপর নির্মিত দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্থায়ী সেতুটির উদ্বোধন করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নতুন সেতুটি পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার শিবপুর এবং বীরভূমের জয়দেব কেন্দুলিকে সংযুক্ত করবে, যা দুই জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করবে। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বোধনের আগে সেতুটিকে ঘিরে শেষ মুহূর্তের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে এবং পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক, গলসির বিধায়ক নেপাল ঘরুই-সহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকরা বারবার ব্রিজ পরিদর্শন করছেন।

দীর্ঘদিন ধরে কাঁকসার শিবপুর থেকে বীরভূমের জয়দেব কেন্দুলি পর্যন্ত যাতায়াতের জন্য অস্থায়ীভাবে বালিমাটি দিয়ে সেতু নির্মাণ করা হতো। কিন্তু প্রতি বর্ষায় অজয়ের প্রবল স্রোতে সেই অস্থায়ী সেতু ভেসে যেত, যার ফলে দুই জেলার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকত। যদিও নৌকা পরিষেবা চালু থাকত, তবে বড় গাড়ি ও বাস চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেত, যা ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলত।

এলাকাবাসীর বহুদিনের দাবি ছিল, এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি স্থায়ী সেতু তৈরি হলে দুই জেলার লক্ষ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবেন। স্থানীয়রা বারবার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই বিষয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন। অবশেষে মানুষের আবেদনে সাড়া দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে কাঁকসায় একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ১৬৫ কোটি টাকা খরচে অজয়ের উপর নতুন সেতু তৈরির ঘোষণা করেছিলেন। সেতুটির নির্মাণ কাজ কয়েক বছর ধরে চললেও, কাঁকসার শিবপুরের দিকে জমি-জটের কারণে মাঝপথে তা থমকে গিয়েছিল। পরে প্রশাসনিক তৎপরতায় জমির মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জমি সমস্যা কাটিয়ে কাজ পুনরায় শুরু হয় এবং দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়। কাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই এলাকার মানুষ ও দুই জেলার প্রশাসন মুখ্যমন্ত্রীর হাত দিয়ে এর উদ্বোধনের অপেক্ষায় ছিল।

অজয়ের বুকে নির্মিত এই স্থায়ী সেতুর দৈর্ঘ্য ২.৭৩৮ কিলোমিটার, যার মধ্যে নদীর উপর মূল অংশের দৈর্ঘ্য ১০৫৭ মিটার। এই সেতু শুধু দুটি জেলার মধ্যে সহজ যোগাযোগই স্থাপন করবে না, বরং এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এবার অজয়ের ভয়াল রূপ আর দুই জেলার মানুষের যাতায়াতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না, যা বর্ষার মাসগুলিতে এক বিরাট স্বস্তি আনবে।