ভারী বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত পাহাড়ি অঞ্চল, দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস! রাজ্যজুড়ে দুর্যোগের ঘনঘটা

লাগাতার ভারী বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি অঞ্চল, বিশেষ করে দার্জিলিং জেলা। রবিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই প্রবল বর্ষণ সোমবার এবং মঙ্গলবারও অব্যাহত রয়েছে, যার জেরে তিস্তা নদীর জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কালিম্পংয়ের তিস্তাবাজার এলাকায় ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাংশ জলের তলায় চলে গেছে, ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে এবং গাড়িগুলিকে বিকল্প পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কার্শিয়াংয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা) ৩৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়াও, দার্জিলিংয়ের হুকার রোড এবং মানেভঞ্জন-বিজনবাড়ি সড়কে একাধিক ধস নেমেছে, বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু এলাকায় লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। লোধামায় মঙ্গলবার ভোরে নতুন করে ধস নেমেছে। তিস্তার পাশাপাশি মহানন্দা ও বালাসন নদীর জলস্তরও বেড়েছে। স্বস্তির বিষয় হলো, এই মুহূর্তে পাহাড়ে পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।
এদিকে, দক্ষিণবঙ্গেও নিম্নচাপের প্রভাবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। মঙ্গলবার ভোররাত থেকেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় আকাশ কালো করে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের জেরে সোমবার থেকেই রাজ্যজুড়ে বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল এবং মঙ্গলবার বৃষ্টির পরিমাণ অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা
আজ মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব এবং পশ্চিম বর্ধমানের মতো জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও, দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত চলবে। মৌসম ভবন জানিয়েছে, মৌসুমী অক্ষরেখা শ্রীগঙ্গানগর, ঝুনঝুনু, উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও সংলগ্ন পূর্ব রাজস্থানে অবস্থিত নিম্নচাপ কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে পন্না, ডালটনগঞ্জ, পুরুলিয়া হয়ে পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্ব দিকে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এবং কিছু জায়গায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতও হতে পারে। আজ কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ৯৮%।
আগামী কয়েকদিনের পূর্বাভাস
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর আরও জানিয়েছে যে, মঙ্গলবার রাজ্যের পাঁচটি জেলা ছাড়া (সম্ভবত দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমের কিছু জেলা), বাকি সব জেলাতেই ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর সাথে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, যা বিপদ বাড়াতে পারে। ৩০শে জুলাই, বুধবার, উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে আপাতত বৃষ্টির দাপট কিছুটা কম থাকলেও, দক্ষিণবঙ্গ দুর্যোগ থেকে রেহাই পাবে না। বুধবার বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, হাওড়া, হুগলি, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, দুই বর্ধমান, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই জেলাগুলিতে ঝোড়ো হাওয়াও বইবে।
শুধু এই দু’দিন নয়, আগামী এক সপ্তাহ দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায় বৃষ্টি জারি থাকবে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। তবে, বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহেও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করেছে যে, এখনও পাহাড়ে বর্ষা সেভাবে শুরু হয়নি। অগস্টের প্রথম সপ্তাহে বর্ষার মূল বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতি আরও বেসামাল হতে পারে। নিম্নচাপ সরে যাওয়ায় বর্তমানে সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে পাহাড়ে বর্ষার প্রভাব বাড়বে। প্রশাসনকে এই বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে এবং বর্ষার বৃষ্টিতে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।