অধীরের চরম আক্রমণ মমতাকে, ‘বাঙালি-অবাঙালি বিভেদ সৃষ্টিকারী’ এবং ‘বাংলার সবচেয়ে বড় বিপদ’ আখ্যা

রাজ্য রাজনীতিতে ফের তৃণমূল এবং কংগ্রেসের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়েছে। এবার পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি এবং লোকসভার সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চরম আক্রমণ শানিয়েছেন। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেছেন যে মুখ্যমন্ত্রী ‘বাঙালি এবং অবাঙালির মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন’, এবং ‘পশ্চিমবঙ্গের সব থেকে বড় বিপদের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’।

অধীর রঞ্জন চৌধুরী তাঁর কড়া মন্তব্যে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইচ্ছাকৃতভাবে বাঙালি এবং অবাঙালির মধ্যে একটি কৃত্রিম বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন। এটা রাজ্যের সংহতি ও শান্তি বিনষ্ট করবে।” তাঁর মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই ধরনের মন্তব্য রাজ্যের সামাজিক কাঠামোতে ফাটল ধরাতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত বিপজ্জনক।

কংগ্রেস নেতা আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের সব থেকে বড় বিপদের নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।” তিনি যুক্তি দেন যে মুখ্যমন্ত্রীর নীতির কারণে রাজ্যের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে এবং এর সুযোগ নিয়ে মানব পাচার, বিশেষ করে নারী ও শিশু পাচার বাড়ছে। তিনি বলেন, “বাংলার মানুষের দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে নারী ও শিশু পাচার বাড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” অধীরের অভিযোগ, রাজ্য সরকার এই গুরুতর সমস্যা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেলেও, অধীর রঞ্জন চৌধুরীর এই মন্তব্য কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তৃণমূলের প্রতি একটি সরাসরি এবং শক্তিশালী আক্রমণের ইঙ্গিত বহন করে। এই ধরনের অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এর কড়া জবাব আশা করা হচ্ছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকার প্রায়শই বিজেপির বিরুদ্ধে বাঙালি-অবাঙালি বিভেদ সৃষ্টির অভিযোগ তোলে। তবে, এবার কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একই অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে আসায় রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হচ্ছে। অধীর চৌধুরীর এই মন্তব্য আসন্ন পঞ্চায়েত এবং বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, তৃণমূল কংগ্রেস এই আক্রমণের জবাবে কী কৌশল নেয়।