মঙ্গলকোটের ‘শোলাগ্রাম’ থেকে মা দুর্গার অভিনব শোপিস, বিশ্ববাংলা’র মন জয় করলেন শিল্পী প্রদীপ মালাকার

বিয়ের টোপর বা প্রতিমার সাজের গণ্ডি পেরিয়ে এবার শোলা শিল্প এক নতুন মাত্রা পাচ্ছে। পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট ব্লকের বনকাপাসি গ্রামের শিল্পী প্রদীপ মালাকার তাঁর নিপুণ হাতে তৈরি করছেন দেবী দুর্গার মুখের মনোমুগ্ধকর শোপিস, যা ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের ‘বিশ্ববাংলা’ প্রকল্পের নজর কেড়েছে। আসন্ন দুর্গাপূজার আগে তিনি ২০০টি শোলার শোপিস তৈরির সরকারি অর্ডার পেয়ে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বনকাপাসি গ্রাম, যা এখন অনেকের কাছে ‘শোলাগ্রাম’ নামেই পরিচিত, বহু বছর ধরেই শোলা শিল্পের জন্য বিখ্যাত। এই গ্রামের অধিকাংশ পরিবারই শোলা দিয়ে ঠাকুরের সাজ, বিয়ের টোপর এবং মণ্ডপসজ্জার মতো ঐতিহ্যবাহী জিনিসপত্র তৈরিতে যুক্ত। তবে শিল্পী প্রদীপ মালাকার এই শিল্পের ঐতিহ্যকে এক অভিনব মোড় দিয়েছেন।

শোলার শিল্পে নতুন দিগন্ত:

বোলপুর থেকে সংগ্রহ করা ছোট আকারের মাটির মা দুর্গার মুখকে ভিত্তি করে, প্রদীপ মালাকার তাতে শোলার সূক্ষ্ম কারুকাজ ফুটিয়ে তুলছেন। এই শিল্পকর্মগুলিকে কাঁচের ফ্রেমে বন্দি করে তৈরি হচ্ছে অসাধারণ সব শোপিস। এই ভাবনাটি কেবল আলংকারিক উপাদান হিসেবে নয়, বরং জনপ্রিয় উপহার সামগ্রী হিসেবেও ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে।

শিল্পী প্রদীপ মালাকার তাঁর এই নতুন উদ্যোগ প্রসঙ্গে বলেন, “আমি একটু অন্যধরনের কাজ করি। এখন সারাবছরই বিশ্ববাংলার সঙ্গে কাজ করছি। শোলা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের শোপিস আমি তৈরি করি। ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ২৫০০ টাকা দামের শোপিস আমি তৈরি করি।” তাঁর এই কাজ একদিকে যেমন শোলার ঐতিহ্যবাহী রূপকে ধরে রেখেছে, তেমনই আধুনিকতার ছোঁয়ায় তাকে নতুন প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

বনকাপাসির নতুন পরিচিতি:

এই উদ্যোগ শুধুমাত্র একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এটি পূর্ব বর্ধমানের বনকাপাসি গ্রামকে এক নতুন পরিচিতি এনে দিয়েছে। একসময় শুধু ঐতিহ্যবাহী শোলা সামগ্রীর জন্য পরিচিত এই গ্রাম এখন অভিনব শোলার শোপিসের জন্যও রাজ্যজুড়ে সমাদৃত হচ্ছে। শোলার মতো নরম এবং ভঙ্গুর উপকরণ দিয়ে তৈরি এই ‘শক্ত শিল্প-স্বপ্ন’ প্রমাণ করছে যে, ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধনে কীভাবে ভবিষ্যতের এক নতুন শিল্প জগৎ তৈরি করা যায়।

পুজোর আগে এই সরকারি অর্ডার বনকাপাসি গ্রামের শোলা শিল্পীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে এবং তাদের কাজের প্রতি আরও উৎসাহিত করেছে। আশা করা যায়, প্রদীপ মালাকারের এই উদ্যোগের হাত ধরে শোলা শিল্প কেবল রাজ্যের মধ্যেই নয়, দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও পরিচিতি লাভ করবে।