শান্তিপুর স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে ‘শান্তিপুর ধাম’ করার প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে, সাংসদের ৫ দফা দাবি পেশ

শান্তিপুর রেলওয়ে স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে “শান্তিপুর ধাম” করার প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পেশ করা হয়েছে। শুক্রবার রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ জগন্নাথ সরকার রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে দেখা করে শান্তিপুর ও রানাঘাট অঞ্চলের রেল পরিষেবা উন্নয়নে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করেন। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান দাবি ছিল শান্তিপুর স্টেশনের নাম পরিবর্তন।
সাংসদ জগন্নাথ সরকার তাঁর প্রস্তাবের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, “শান্তিপুর দেশ-বিদেশে একটি পবিত্রভূমি হিসেবে পরিচিত। এখানকার ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে স্টেশনের নাম ‘শান্তিপুর ধাম’ করা হলে তা এই স্থানের মাহাত্ম্যকে আরও বেশি করে তুলে ধরবে এবং পর্যটন বিকাশে সহায়ক হবে।”
নামবদলের আবেদন ছাড়াও, সাংসদ জগন্নাথ সরকার রেলমন্ত্রীকে যে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলি জানিয়েছেন, সেগুলি হল:
১. স্থায়ী হকার্স কর্নার: শান্তিপুর স্টেশন প্রাঙ্গণে একটি স্থায়ী ও সুশৃঙ্খল হকার্স কর্নার নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, এটি একদিকে যেমন অসংখ্য হকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, তেমনই রেলও আর্থিকভাবে লাভবান হবে।
২. শান্তিপুর-নবদ্বীপ ঘাট রেল পরিষেবা দ্রুত চালু: সাংসদ শান্তিপুর–নবদ্বীপ ঘাট রেল পরিষেবা দ্রুত চালুর জন্য আবেদন জানিয়েছেন। এই রুটটি ধর্মীয় এবং পর্যটন উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি নবদ্বীপ ধামের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করবে।
৩. রানাঘাট রেল হাসপাতালমুখী লোকাল ট্রেন: রানাঘাট রেল হাসপাতালগামী লোকাল ট্রেন চালুর দাবি তুলেছেন সাংসদ। তাঁর যুক্তি, এতে রোগী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও সুবিধাজনক হবে, বিশেষ করে যারা চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন।
৪. রানাঘাট-বনগাঁ ডবল রেলপথের দ্রুত কাজ: রানাঘাট–বনগাঁ ডবল রেলপথের নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে পরিষেবা চালুর জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন জগন্নাথ সরকার। এই রেলপথ চালু হলে উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া জেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে।
রাজ্য বিজেপি সূত্রে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। সাংসদের এই উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে, বিশেষত যারা দীর্ঘ দিন ধরে শান্তিপুর এবং রানাঘাট অঞ্চলের রেল পরিষেবা উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কেন্দ্রের কাছে এই প্রস্তাবগুলি গৃহীত হলে এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।