ঘরে রাখুন কামধেনু গরুর মূর্তি, পূরণ হবে সমস্ত ইচ্ছা! কোনদিকে রাখা শুভ এই মূর্তি?

বাস্তুশাস্ত্রে কামধেনু গরুর বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। মনে করা হয়, বাড়িতে কামধেনু (সুরভী) গরু এবং তার বাছুর (নন্দিনী)-এর মূর্তি স্থাপন করা অত্যন্ত শুভ। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূর্তি স্থাপন করলে গৃহে ইতিবাচক শক্তি প্রবাহিত হয় এবং সুখ ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়, সেই সঙ্গে পূরণ হয় মনের সকল ইচ্ছা।

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, কামধেনু গরু সুরভী বা কামদুঘা নামেও পরিচিত। হিন্দু ধর্মে এটি একটি ঐশ্বরিক ও অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় রূপে পূজিত হয়। কথিত আছে, দেবতা ও অসুরদের দ্বারা ক্ষীরসাগর মন্থনের সময় এই গরুর আবির্ভাব হয়েছিল এবং এটি ঋষি বশিষ্ঠকে ঐশ্বরিক উপহারস্বরূপ প্রদান করা হয়েছিল।

কামধেনু গরুর প্রতিটি অঙ্গ দেবত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। এর চারটি পা চারটি বেদের, মুখ হিমালয়ের এবং চোখ সূর্য ও চন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করে। এর কাঁধে অগ্নি, বায়ু এবং পবন দেবতার অধিষ্ঠান বলে মনে করা হয়। পবিত্র ত্রিমূর্তি – ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব – বাস করেন এর শিং-এ, অগ্রভাগে ব্রহ্মা, কেন্দ্রে বিষ্ণু এবং মূলে শিবের অবস্থান।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, যে বাড়িতে কামধেনু গরু ও তার বাছুরের মূর্তি একসঙ্গে স্থাপন করে পূজা করা হয়, সেই গৃহে স্বয়ং তিন দেবী – লক্ষ্মী (ধন), সরস্বতী (বিদ্যা) এবং দুর্গার (শক্তি) আশীর্বাদ বর্ষিত হয়।

বাস্তু বিশেষজ্ঞ এবং জ্যোতিষী নীতিকা শর্মার মতানুসারে, বাস্তুশাস্ত্রের নিয়ম মেনে কামধেনু গরু ও তার বাছুরের মূর্তি সঠিক দিকে ও স্থানে স্থাপন করলে তা গৃহে ইতিবাচক শক্তি নিয়ে আসে এবং সৌভাগ্য বৃদ্ধি করে। তাই, ঘরে কামধেনু মূর্তি রাখার সময় বাস্তু নীতি অনুসরণ করা অপরিহার্য।

বাস্তুশাস্ত্র আরও বলে যে, কামধেনু গরুর মূর্তি জীবনে আসা সমস্ত প্রকার ঝামেলা ও বাধা দূর করতে সক্ষম এবং এটি ধার্মিক ও জাগতিক উভয় ক্ষেত্রেই সাফল্য এনে দিতে পারে। শাস্ত্রে এই গরুকে ‘ব্রহ্মদীয় গরু’ বলা হয়েছে।

বাস্তু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কামধেনু গরু ও তার বাছুরের মূর্তি অথবা ছবি বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণে স্থাপন করা উচিত, কারণ এই দিকটি দেব-দেবতাদের বাসস্থান হিসেবে গণ্য হয়। এছাড়াও, পূজার ঘরে তামা, পিতল বা রূপা ইত্যাদি ধাতু নির্মিত কামধেনু গরুর মূর্তি স্থাপন করা যেতে পারে। এর ফলে গৃহে শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে বলে বিশ্বাস করা হয়।