দৃষ্টিহীনতার বাধা পেরিয়ে, দাবায় জাতীয় স্তরে বাজিমাত সানিয়ার, লক্ষ্য এবার প্যারা অলিম্পিক

চোখের আলো না থাকলেও যে মনের আলোয় আলোকিত করা যায় জীবন, তা আবারও প্রমাণ করে দেখাল পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের জামুড়িয়ার নিঘা গ্রামের মেয়ে সানিয়া খাতুন। জন্মগতভাবে দৃষ্টিহীন হওয়া সত্ত্বেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর প্রতিভার জোরে দাবা খেলায় জাতীয় স্তরে প্রথম দশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে এই ১৫ বছরের কিশোরী। তার এই অভাবনীয় সাফল্য কেবল তার পরিবারকেই নয়, সমগ্র দৃষ্টিহীন সমাজকে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। সানিয়ার পরবর্তী লক্ষ্য এবার প্যারা অলিম্পিকে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা।
অভাবের সংসারে লড়াই, তবুও অদম্য সানিয়া
নিঘা গ্রামের এক নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্ম সানিয়ার। ছোটবেলায় বাবাকে হারানো সানিয়ার পরিবারে মা, দুই দিদি এবং এক দাদা রয়েছেন। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থাতেই চলে তাদের সংসার। এই প্রতিকূলতার মধ্যেও জন্ম থেকেই দৃষ্টিহীন সানিয়াকে প্রতিনিয়ত অসংখ্য সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বর্তমানে সানিয়া আসানসোল ব্রেইল অ্যাকাডেমির অষ্টম শ্রেণির আবাসিক ছাত্রী। পড়াশোনার পাশাপাশি কম্পিউটার, গান, আবৃত্তি— সব কিছুতেই সে সমানভাবে পারদর্শী। এই বহুমুখী প্রতিভাময়ী কিশোরীই চমকে দিয়েছে দাবা খেলার ক্ষেত্রে।
দাবার চালে বাজিমাত, স্বপ্ন এবার প্যারা অলিম্পিক
ছোট্ট সানিয়া নিজের সাফল্যের রহস্য প্রসঙ্গে বলে, পড়াশোনার পাশাপাশি দাবা খেলা ছোট থেকেই তার খুব প্রিয়। ত্রিপুরার একটি ইভেন্টে সাফল্যের পর, সম্প্রতি সে হিউমেন চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে বেঙ্গালুরু গিয়েছিল। সেখানেই সে তার প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। কয়েকদিন আগেও কর্ণাটকে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্তরের একটি দাবা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সানিয়া প্রথম দশটি স্থানের মধ্যে নিজের জায়গা করে নেয়।
সানিয়ার এই সাফল্যে স্বাভাবিকভাবেই সকলেই খুশি। তার স্বপ্ন এখন আরও বড় – আগামীতে প্যারা অলিম্পিকে অংশ নেওয়া। সেই লক্ষ্যেই সে এখন কঠোর অনুশীলন শুরু করেছে। সানিয়ার এই গল্প প্রমাণ করে যে, শারীরিক সীমাবদ্ধতা কখনই সফলতার পথে বাধা হতে পারে না, যদি মনের অদম্য ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগানো যায়। সানিয়া খাতুন এখন কেবল একটি নাম নয়, সে সমগ্র সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।